আনসার ভিডিপির সদস্য‘র বিরুদ্ধে অভিযোগ,মোবাইল ফোন চেকিং, ভিডিও ভাইরাল!
প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ ফতুল্লাহ প্রতিনিধিঃ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করে সাধারণ পথচারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেকিং করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় এই ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহিনীর নিরপেক্ষতা, সদস্যদের দায়িত্ববোধ এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আনসার ও ভিডিপির ওই ব্যক্তিকে চাষাড়া এলাকায় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এ সময় সাধারণ পথচারীদের থামিয়ে তাঁদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাই কিংবা পরীক্ষা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে পথচারীরা। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কার্যক্রমে বাহিনীর সদস্যকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। পথচারীরা প্রশ্ন তুলে সংবাদ কর্মীদেও জানান, আনসার ও ভিডিপি সদস্যের দায়িত্ব কি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা? তিনি কি বাহিনীর নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন, নাকি কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হয়ে ক্ষমতার প্রভাব প্রদর্শন করছিলেন? যদি তিনি সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে এমন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?
সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন ব্যক্তিগত সম্পদ। সেখানে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, যোগাযোগ, আর্থিক তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। আইনগত ভিত্তি ও যথাযথ কর্তৃত্ব ছাড়া কারও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত তথ্য দেখাতে বাধ্য করার অধিকার কারও নেই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কি কোনো রাজনৈতিক দলের সহযোগী শক্তি, নাকি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী? বাহিনীর পোশাক কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হতে পারে না। একজন সদস্যের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে, কিন্তু বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন সদস্যের আচরণগত বিচ্যুতি নয়, বরং পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে সেটি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট জেলা কমান্ড্যান্টসহ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি, যেই ব্যক্তি এমন কাজ করেছে তার পরিচয়, পদবি, কর্মস্থল এবং ওই এলাকায় তাঁর দায়িত্ব পালনের বৈধতা দ্রুত যাচাই করা হোক। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রত্যক্ষদর্শীদের
বক্তব্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা বাহিনীর পদমর্যাদা কোনো কিছুকেই বিবেচনায় না নিয়ে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বাহিনীর পোশাক পরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার অধিকার কারও নেই। আনসার ও ভিডিপির পরিচয় জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রতীক—কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার নয়।
