৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ

নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সংবাদ, ২৪ ঘণ্টা

সর্বশেষ

নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সংবাদ, ২৪ ঘণ্টা

জেলা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারি ছুটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, জেএফজেডে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ৭ নভেম্বরের সাধারণ ছুটির দিনেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ভূঁইগড় (পূর্ব কাজীপাড়া), কুতুবপুর এলাকায় জেএফজেড (ঔঋত) নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সাধারণ ছুটির ঘোষণা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। শুধু তাই নয় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ কিংবা এ বিষয়ে অভিযোগ করলে বেতন আটকে দেওয়া হতে পাওে এমন আশঙ্কাও করছেন শ্রমিকদের কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও জেএফজেডে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়। শ্রমিকদের ছুটির পরিবর্তে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি ছুটির দিনে শ্রমিকদের বিশ্রাম ও পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগ না দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারি ছুটির দিনে কাজ করতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছেন। অথচ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।

কারণ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কিংবা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে বেতন আটকে দেওয়া হতে পারে বলে তাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের এই আশঙ্কা সত্য কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। সরকার যখন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, তখন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোন আইনগত ভিত্তিতে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি সরকারি ছুটির বিষয়ে অবগত ছিল না, নাকি জেনেশুনেই শ্রমিকদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে? ছুটির দিনে কাজ করানো হলে শ্রমিকদের বিকল্প ছুটি ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অতিরিক্ত মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকদের অধিকার তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সচল রাখার অজুহাতে শ্রমিকদের আইনগত সুযোগ-সুবিধা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি। অথচ তাদের ছুটি, বিশ্রাম ও ন্যায্য পাওনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) এবং শ্রম অধিদপ্তরের কাছে জেএফজেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে। ৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি কেন খোলা রাখা হয়েছিল, শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, তাদের ওপর

কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং আইন অনুযায়ী ছুটির বিকল্প সুবিধা ও মজুরি দেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয় সরেজমিনে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন আটকে দেওয়ার আশঙ্কা এবং অভিযোগ করার কারণে কোনো শ্রমিককে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, জেএফজেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সাধারণ ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠানটি কী কারণে চালু রাখা হয়েছিল এবং শ্রমিকদের ছুটি ও মজুরির বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া প্রয়োজন।

সরকারি ছুটির ঘোষণা কি শুধু প্রজ্ঞাপনের কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শিল্পকারখানাতেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে? নারায়ণগঞ্জের জেএফজেডকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় শ্রমিক ও সচেতন মহল।

 

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত