প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ষাটনল ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেছেন, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং মানুষের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে। একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে মাঠের বিকল্প নেই। খেলাধুলা এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে কোনো বিভেদ নেই।’তিনি আরো জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। সমাজ থেকে কুসংস্কার, অন্যায়-অত্যাচার দূরীকরণে যেমন শিক্ষার বিকল্প নেই, তেমনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
মতলবে শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মামপুর মাঠে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিযউর রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ফুটবল খেলার ফাইনালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক ভাই এসেছিলেন। তিনি এই মতলবের ক্রীড়া ও দর্শকদের প্রসংশা করেছেন এবং খেলাধুলার গ্রামীণ পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি সুযোগ দানে আম্বাস প্রদান করেছেন নেই লক্ষে বর্তমানে কাজও চলছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইমামপুর পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ইমামপুর যুবসমাজ কর্তৃত আয়োজিত ইমামপুর প্রিমিয়ার লীগ ডাবল ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম সরকার বলেন,একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সমাজের সর্বস্তরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।
একসময় শহর কেন্দ্রিক থাকলেও এখন তা গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতা থেকে তরুণদের রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমরা ক্রীড়া ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। সেই লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের নতুন কুঁড়িকে আবার সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা এমন এক প্ল্যাটফর্ম যেখানে কোনো বিভেদ নেই। অ্যাড.মফিজুল ইসলাম সরকার দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ গঠনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিতভা অন্বেষণ করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখা।খেলাধুলা মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য সৃষ্টি করে। মাঠে সবাই প্রতিদ্বন্দ্বি হলেও খেলা শেষে সবাই একে অপরের বন্ধু এটাই এমন আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
খেলোয়াড়দের উদ্দেশে অ্যাড.মফিজুল ইসলাম সরকার বলেন, আজ যারা খেলাধুলায় এগিয়ে এসেছ, তোমাদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা রইল। সেই সঙ্গে তোমাদের অভিভাবকদের প্রতিতও কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ সন্তানদের খেলাধুলার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তারা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছেন। যারা বিশেষ করে ইমামপুর যুবসমাজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এধরণে একটি সুন্দর দর্শক নন্দিত পরিচ্ছন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট উপহার দেওয়ার জন্য।
ফাইনাল খেলার উদ্বোধক ছিলেন,মতলব উত্তর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ শাহ আলম ভুইয়া।টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আবু ইউসুফ এসপির গর্বিত পিতা অবঃ শিক্ষক মোঃ নওয়াব আলী মাষ্টার। টুর্নামেন্টের পরিচালনায় ছিলেন, ষাটনল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোহসিন সরকার, সমাজ সেবক মোঃ বিল্লাল প্রধান, ষাটনল ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল মোল্লা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক স্বপন সরকার, আবুল কালাম প্রধান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন অজি প্রমূখ।
ডবশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মিরপুর শহীদ উল্লাহ কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ খালেক্জ্জামান জুয়েল,মতলব উত্তর উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ শাহজালাল, যুগ্ম-আহবায়ক মফিজুল ইসলাম শান্ত ভিপি, মোঃ রফিকুল ইসলাম মাষ্টার, অগ্রনী ব্যাংক এর সাবেক ব্যবস্থাপক বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ জাকির খান, ছেংগারচর পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আশেক মাহমুদ সংগ্রাম, ষাটনল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির মেম্বার, উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক ও ষাটনল ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ খোকন বেপারী, ইমামপুর পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ছবির আহাম্মদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা আশ্রাফ উদ্দিন খান, সমাজ সেবক মোর্শেদ আলম মেম্বার, ছেংগারচর পৌর তাতী দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলেমান প্রধান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ফয়সাল হোসেন রুমন ভুইয়া, সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খেলায় প্রধান রেফারী হিসেবে দায়িত্ব পালন শাহরিয়া সবুজ। সহকারী রেফারী ছিলেন, আতাউর রহমান সুজন ও মহিউদ্দিন খান। খেলার ধারাবিবরণীতে ছিলেন, মোঃ সাব্বির রহমান ও মুন্না। ইমামপুর পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ইমামপুর যুবসমাজ কর্তৃত আয়োজিত ইমামপুর প্রিমিয়ার লীগ ডাবল ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার মাঠের চারপাশে বিভিন্ন বয়সী শত শত দর্শকের উপস্থিতি খেলাটিকে উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ দেয়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও খেলাটি উপভোগ করতে মাঠে ভিড় জমান।
খেলার শুরু থেকেই মামুন একতা বন্ধু মহল মরাধন একাদশ বনাম আদুরভিটি-গৈপুর ফুটবল একাদশ আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের খেলায় এগিয়ে চলে। খেলার দ্বিয়ার্ধে প্রধমার্ধের শেষ হওয়ার ৫ মিনিট পূর্বে একতা বন্ধু মহল মরাধন একাদশ গোল করে এগিয়ে যায়। পরে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে আদুরভিটি-গৈপুর ফুটবল একাদশ গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে খেলেও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে খেলায় কোনো গোল পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে খেলায় মামুন একতা বন্ধু মহল মরাধন একাদশ ১-০ গোলে জয় লাভ করে ১৬ দল নিয়ে এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শুরুর আগ থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় হাজারো দর্শকে। করতালি, উল্লাস আর প্রাণবন্তপরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্রীড়াঙ্গন। ফাইনাল ম্যাচে মাঠের চারপাশে কয়েক হাজার দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন। তবে জয়-পরাজয়ের বাইরে গিয়ে খেলাটি পরিণত হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক মিলনমেলায়। ইমামপুর পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ইমামপুর যুবসমাজ কর্তৃত আয়োজিত ইমামপুর প্রিমিয়ার লীগ ডাবল ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফুটবল উন্মাদনার এক অনন্য বিকেল কেটেছে মতলব উত্তর উপজেলার ইমামপুর উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে।
মাঠে অনুষ্ঠিত ইমামপুর প্রিমিয়ার লীগ ডাবল ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের চার পাশের ধারে সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা দর্শকদের দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে খেলা উপভোগ করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই দারুণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। খেলা দেখতে আসা ছেংগারচর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড এর সাবেক কাউন্সিলর মোঃ শাহজালাল মুফতি, ইব্রাহিম কাজী,আরমান কাজীসহ অনেক দর্শক জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে এমনিতেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর মধ্যে মাঠজুড়ে এত বিপুল দর্শকের উপস্থিতি খেলার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ভাষায়, এ মাঠে খেলা উপভোগ করা সত্যিই ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা। খেলায় অংশ নিতে আসা দুই ফুটবলার বলেন, ফুটবলে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে থাকলেও দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অসাধারণ। এখানে এসে আমরা সেই উন্মাদনা অনুভব করেছি। এত দর্শকের উপস্থিতি দেখে খুব ভালো লেগেছে।
ফাইনাল খেলার উদ্বোধক মতলব উত্তর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ শাহ আলম ভুইয়া তার বক্তব্যে বলেন, এত দর্শকের উপস্থিতি আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। পুরো মাঠজুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমাদের আয়োজন সফল হয়েছে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, ‘‘তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠ সচল থাকলে যুবসমাজ মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।’’





