সরাসরি ভোটে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন না হওয়ায়,হাতাশায় পড়েন তৃণমূল

0

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ পীর আবদুল মান্নান: জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে হযবরল অবস্থা চলছে। পৌনে তিন বছরেও হয়নি যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২৭ অক্টোবর। এ সংগঠনেরও একই অবস্থা। মেয়াদের শেষ সময়ে এসে হঠাৎ পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে চলছে তোড়জোড়, যা নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুই সংগঠনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পরিবর্তে বর্তমানের আংশিক দুটি পূর্ণাঙ্গ করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ অবস্থায় সব পদে নাম ঘোষণা হলে এ নিয়ে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

তৃণমূল নেতারা বলেন, যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দল সব পদের নেতা ছাড়াই তিন বছরের মেয়াদ প্রায় শেষ করতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে শীর্ষ নেতারা কেন কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি, এর জবাব হাইকমান্ডের নেয়া উচিত। শুধু তা-ই নয় সারা দেশে সংগঠন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি। এ সময়ের মধ্যে শুধু সাংগঠনিক জেলা শাখাগুলোয় হলেও অধিকাংশই পূর্ণাঙ্গ নয়। এসব ব্যর্থতার পরও মেয়াদের শেষ সময়ে হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়ে তিন মাসের কথা বলে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এখন আংশিকটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ শুরু করেছেন। আজ (রোববার) যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হাইকমান্ডের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। আর স্বেচ্ছাসেবক দলকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সব পদে নতুনদের নাম জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকমান্ড।

জানতে চাইলে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান বলেন, আমরা এ লক্ষ্যে কাজ করছি। এক্ষেত্রে আন্দোলনে পরীক্ষিত, ত্যাগী রাজপথের নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর দেশের গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তাদের সংগঠনে স্থান দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, ২০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি মহানগরের জন্য দেয়া হবে। এতে সংগঠনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের, পাশাপাশি সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। ডেডলাইন দেয়ার পর যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। যুবদলের এক নেতা জানান, কমিটি গঠন নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। বর্তমানে পদধারী ৫ নেতার মধ্যে সভাপতির পক্ষে একজন, বাকিরা সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সবাই আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করেছেন।

কিন্তু এখনও শীর্ষ দুই নেতা তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেননি। কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে পারে ২৭১ সদস্যবিশিষ্ট। একই সঙ্গে ঢাকা দুই মহানগরের জন্যও পূর্ণাঙ্গ করা হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা জানান, পদধারী সাত নেতাই আলাদা তালিকা তৈরি করেছেন। এখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই তালিকা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে এ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যে গ্রুপিং চলছে তাতে যথাসময়ে সব পদের নেতাদের নাম ঘোষণা না-ও হতে পারে।

২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের সুপারফাইভ কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের জন্য আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর শফিউল বারী বাবুকে সভাপতি ও আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, ছাত্রদলের মতো সরাসরি ভোটে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করার পরিকল্পনা ছিল বিএনপি হাইকমান্ডের। তা বাস্তবায়নে এ দুই সংগঠনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু ওই বৈঠকে হঠাৎ করেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত হলে হাতাশায় পড়েন তৃণমূলের নেতারা।

সূত্র জানায়, ৯ অক্টোবর যুবদলের নেতাদের সঙ্গে স্কাইপে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠকে যুবদলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পাঁচ নেতা, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন। এ সময় যুবদল নেতারা আরেকটু সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে হাইকমান্ডকে জানান, আংশিকটি রেখে নতুন কাউন্সিল হলে অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বাদ পড়বেন, যারা কোনো সাংগঠনিক পরিচয় দিতে পারবেন না। পূর্ণাঙ্গ হলে নতুন কাউন্সিলের আগেই অনেক নেতার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।

এ সময় তারেক রহমান যুবদল নেতাদের বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসংক্রান্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। এরপর গত সোমবার বিকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে স্কাইপেতে বৈঠক করেন তিনি। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের ১১ নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। তারাও হাইকমান্ডকে আরেকটু সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাদের তিনি ২০ অক্টোবরের (আজ) মধ্যে দুই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর কেন্দ্রের জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেন।

এদিকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদ পেতে একাট্টা হয়েছেন সাবেক ছাত্রদলের নেতারা। যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত- এমন বেশ কয়েকজন নেতা রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠকও করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক এক সহসভাপতি বলেন, আট বছর ধরে কোনো সংগঠনে জায়গা হয়নি। ওয়ান ইলেভেনে আমরা রাজপথে ছিলাম, অতীতের সব আন্দোলনে ছিলাম। মামলায় জর্জরিত। অথচ আমাদের মূল্যায়ন করা হল না। আমরা চাই ছাত্রদলের যারা ত্যাগী নেতা, তাদেরকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদ দেয়া হোক। এবারও যদি আমাদের মূল্যায়ন করা না হয়, আমরা প্রতিবাদ জানাব। যা যা করা দরকার করব।

Leave a Reply

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here