প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মুঃ আঃ মোতালিব তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥ বরগুনার তালতলীতে ফ্যাসিবাদ আমলে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তার সহদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে গত ১৯ আগস্ট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম হুমায়ূন হাসান শাহীন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। ২৫ আগস্ট একই অভিযোগে মোস্তাকের বড় ভাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিয়া. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া শোকজ করেন।
পৃথক দুটি শোকজ নোটিশের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখীতে ঝড় তুলেন এবং অবিলম্বে তাদের এই শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক মোঃ শামীম আহসান, মংসেলেন তালুকদার, উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মো. আল-আমিন, সদস্য সচিব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ আসলাম আকন। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহির, তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হোসেন রোমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নেহাল ইসলাম রাকিব, তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ সুমন কারী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা-মামলা ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্যেও তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
রাজনৈতিক মামলা-হামলাসহ রাজপথের ভয়াবহ প্রতিকূলতায় এ দুই নেতা ছিলেন তৃণমুলের প্রধান অভিভাবক। আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁদের জীবন, সম্পদ ও ক্যারিয়ার বাজি রেখে এ পর্যন্ত উপজেলায় বিএনপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রেখেছেন। আজ তাঁদের বাদ দিলে উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে শুন্যতা থেকেই যাবে? তাঁদের বাদ দিয়ে তালতলীতে বিএনপির রাজনীতি কল্পনা করা মুশকিল।
তৃণমূলের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দুঃসময়ে যাঁরা অভিভাবকের মতো নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এভাবে শোকজ দেওয়া দুঃখজনক। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সুবিধাবাদী একটি মহল এর সুযোগ নিতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দলের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের দাবি, তালতলীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে মোস্তাক ও রিয়াজের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজ প্রত্যাহার না করা হলে দলের তৃণমূলে বিভাজন আরও বাড়তে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন।





