প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে সংশ্লিষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি, খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনরত এক সচিবের নাম নতুন করে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
যদিও এর আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছিল। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কোনো জানা নেই। তার ভাষায়, “আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, সেটিই স্বাভাবিক। অন্যদিকে বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন।
একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এর চেয়েও বিস্ময়কর বিষয় হলো, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তবে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।





