প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাত থেকে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে হস্তান্তরের গুঞ্জনে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগে দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের আশঙ্কায় রাজপথে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পাশাপাশি ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সভায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের মধ্যে।
বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থী ও নিবন্ধনধারীদের অভিযোগ, অতীতে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল, তখন মেধার চেয়ে ঘুষ, প্রভাব ও স্বজনপ্রীতিই বেশি গুরুত্ব পেত। সেই পুরোনো ব্যবস্থা আবার চালু করা হলে প্রকৃত যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকরা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি হতে পারে চরম বিশৃঙ্খলা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পৃথক বিবৃতি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন আলোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের যে স্বচ্ছ ও তুলনামূলকভাবে জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে, সেটিকে নষ্ট করার যেকোনো উদ্যোগ বা চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে।
এদিকে এনটিআরসিএর কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও উত্তাপের বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এনটিআরসিএর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে—এটি সত্য। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এনটিআরসিএকে ঘিরে আলোচনা থেকে বিভিন্ন মহলে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিগগিরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হবে।





