প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার একজন আইনজীবী সমাজের বিচারপ্রার্থীদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে আদালতে লড়ে থাকেন। কিন্তু সেই আইনজীবীকেই অসহায় ভুক্তভোগী বানিয়ে ছেড়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল দেবনাথ। নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবী আব্দুর রহমানের জমি মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে ভূমিদস্যুদের নামে নামজারি করে দিয়ে সেই আইনজীবীর জমি আত্মসাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আইনজীবী আব্দুর রহিম ন্যায় বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিমের, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি মৌজাস্থিত খিলপাড়া সাকিনে ৪.৫ (সাড়ে চার) শতাংশ জমি অফেরতযোগ্য পাওয়ার নামা সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছিলো। যা দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় করে সীমানা নির্ধারণ করে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখেছিলো। জমির আর.এস দাগ ছিল ৪৬২৫ এর উক্ত দাগে মোট সম্পত্তি ছিল ২১ শতাংশ উক্ত ২১ শতাংশ পূর্বেই ক্রয়কৃত সবার নামজারী ছিল।
পরবর্তীতে তহসিলদার দুলাল ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে পরিবানু, মোস্তফা, আরিফ হোসেন, মামুন হোসেন, সুমন হোসেন দাতা হয়ে পরিবানুর ছেলে জামানকে অ্যাডভোকেট রহিমের দলিলের চৌহদ্দি ব্যবহার করে সাফ কবলা করে দেন। উক্ত ঘটনা জানতে পেরে গোদনাইল ভূমি অফিসে গিয়ে তহসিলদার দুলাল কে জালকুড়ি মৌজার আর.এস দাগ ৪৬২৫ নং দাগের সকল কাগজপত্র উত্তোলন করে দেখতে পায়, রেকর্ড ভলিয়মে ২৬ শতাংশ নামজারী করেছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি দুলাল দেবনাথ কে ২১ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৬ শতাংশ অতিরিক্ত নতুন করে ৩ শতাংশ নামজারী কেন দিলেন? যার নামজারী জমাভাগ ও মোকদ্দমা নং- ৩৯৫৯ (ওঢ-১)/২০২৪-২৫ যাহার খতিয়ান নং- ২০২৫-১০০৪১০, যাহার নামজারী মোকদ্দমা নং- ২৬১৫ (ওঢ-ও) /২০২৫-২৬ ভলিয়মে তো ২১ শতাংশ জায়গা অতিরিক্ত ৩ শতাংশ নামজারী থেকে দিছেন। তারা আমার চৌহদ্দি ব্যবহার করে আমার জমি দখলের পাঁয়তারা করিতেছে। তখন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আমাকে বলে মিসকেস করতে।
তখন আমি বললাম আমার নামজারী বহাল আছে। আমি কেন মিসকেস করতে থাকে। তখন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা দুলাল কে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ নামজারী দেওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন। তার কম্পিউটার ৬ মাস ধরে নষ্ট। তাই আমি খেয়াল করি নাই। তখন আমি বললাম আপনি দূনীর্তি করে টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ নামজারী দিলে যার কারণে তারা আমার জমি দখলের পাঁয়তারা করতেছে এবং আপনার কারণে আমি একজন আইনজীবী হয়ে অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করতেছি এর আগে ও পরে উক্ত ভূমি কর্মকর্তা দুলাল বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাজ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে এবং ভূমি দস্যুদের হাত মিলিয়ে অসহায় মানুষের জমি অন্যের নামে নামজারী করে দেন।
এসব অভিযোগ তুলে অ্যাডভোকেট আব্দুল রহিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জোড় দাবি জানিয়েছেন। দুলাল দেবনাথের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং এর বিরুদ্ধে কোন প্রকার দাপ্তরিক অ্যাকশন না হওয়ার ব্যাপারে সুশীল সমাজের সমাজের প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম এর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ভূমি অফিসের চিত্র প্রায় একই। হাতে গুনা দুইএকজন বাদে বাকি সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত, জেলা প্রশাসকের হাতে এসকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের উচিত ভূমি অফিস গুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করে সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একজন আইনজীবীর জমি ভূমিদস্যুদের নামজারি করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, আমাদের আইনজীবীর সমিতির সদস্যের জমির বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে।
উনি বিষয়টি তদন্ত করছেন। আমরা আইনজীবীরা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। দুলাল দেবনাথের অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে তিনি বলেন, যদি এমন কিছু থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই তার আয়ের উৎস কি এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।





