তালতলীতে ঘটনাস্থলে না থেকেও ‘দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ মামলার আসামি

0
তালতলীতে ঘটনাস্থলে না থেকেও ‘দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ মামলার আসামি

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে ঘটনাস্থলে না থেকেও একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের মামলায় দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১ টায় ‘তালতলী প্রেসক্লাব’ -এর হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীরা হলেন-আমতলী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান সাকিব তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড, হেলেঞ্চাবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ানউল্লাহর ছেলে। আর তালতলীর কড়ইবারিয়া কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. নাইম একই এলাকার আশরাফ তালুকদারের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫১ নং হেলেঞ্চাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৮ জুন স্থানীয় বাসিন্দা নুর সাইদ আকনের সাঙ্গে মাসুম সরদারের বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর এঘটনায় ১১ জুন মাসুম সরদারের পিতা আশ্রাফ হোসেন সরদার বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ানউল্লাহ এবং দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় তারা জড়িত তো দূরের কথা এলাকায়ই ছিলেন না। মারামারির ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকলেও এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। এর আগেও ২০২২ সালে এই মামলার বাদী আশ্রাফ আলী সরদারের সাথে একই গ্রামের অজেত তালুকদারের জমিজমা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা হয়েছিল।

সেই মামলাতেও এই দুই শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত না থাকার প্রমাণ মেলায় তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান সাকিব ও মো. নাইম বলেন, “আমরা দুজনেই বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ডিফেন্সে চাকুরীর আবেদনকারী।

আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাদেরকে একটি মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। এ ঘটনার সাথে আমাদের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আমাদের আকুল আবেদন আপনারা সরেজমিনে ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুন।

”তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা অবগত হয়েছি যে, তারা পরীক্ষার্থী। তদন্তে যদি ওই দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মারামারির সাথে সম্পৃক্ত না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।” তারিখঃ ৩০-০৬-২০২৬ ইং

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here