প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তি রতিকান্ত জয়ধর (৪২)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের পরিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, রতিকান্ত জয়ধর গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার ভেন্নাবাড়ী গ্রামের মামার বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত শুক্রবার নিহতের ছোট ভাই রঞ্জিত জয়ধর মহেশপুর থানায় এসে মরদেহটি তার বড় ভাই জয়ধর বলে শনাক্ত করেন। রঞ্জিত জয়ধর জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ভারতে বসবাস করতেন। তার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তার দাবি, সীমান্ত পারাপারের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অথবা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। পরে মরদেহ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ইসামতি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা মরদেহটি নিহতের ছোট ভাই রঞ্জিত জয়ধর মহেশপুরে এসে তার বড় ভাই জয়ধর বলে শনাক্ত করেন।
উদ্ধারকৃত মরদেহটি পচে ফুলে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে শরীরে গুলির চিহ্ন ও আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রঞ্জিত জয়ধর বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় অজ্ঞতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্যঃ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ইছামতি নদীর পাড় থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমান। পরে তারা নদীতে নেমে মরদেহটি দেখে পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দেয়। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন।





