চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন : তোফায়েল পাটোয়ারী

0
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন : তোফায়েল পাটোয়ারী

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ নিজস্ব সংবাদদাতা: মতলব উত্তরের ১০নং ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল পাটোয়ারী। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের ভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) মধ্য লুধুয়া পাটোয়ারী বাড়ী জামে মসজিদে অত্র গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সাথে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ছোট বড় সকলের কাছে ক্ষমা ও দোয়া কামনা করেন। পারিবারিকভাবে জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্য অনুসরণ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন “জনগণের মতামতই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আস্থা ও সমর্থন পেলে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে কাজ করব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা থাকবে।”১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তোফায়েল পাটোয়ারী উপজেলার লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম আবদুল লতিফ পাটোয়ারী।

তিনি মতলব সরকারি ডিগ্রী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। ১৯৮৯ সালে মতলব ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটির সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় এবং ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি মতলব কলেজ সংসদের বিএনপি থেকে কমনরুম সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন এবং ১০নং ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আওয়ামী নানা চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছেন। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের আদর্শ থেকে সরে যাননি এবং স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন। তাছাড়াও তিনি দুঃসময়ে শত নির্যাতন সহ্য করেও দলের পাশে থাকা একনিষ্ঠ কর্মীদের সাথে সবসময় ছায়ার মত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ১০নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেন। তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসীবাদ সরকারের দুঃসহ নির্যাতন, সন্ত্রাসী প্রভাব, ভোট ছিনতাই, রাজনৈতিক চাপ ও অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জনগণের স্বতস্ফূর্ত ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হতে পারতেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তোফায়েল পাটোয়ারী তাঁর বাবার একটি বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবা ভোট দিতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হন এবং ভোট প্রদান করতে ব্যর্থ হন। উক্ত ঘটনায় তার বাবা গভীরভাবে কষ্ট পেয়ে পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তিনি। তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা কখনোই ভুলার মত নয়। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমার অন্যতম অঙ্গীকার।” দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেশনেতা তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। সুযোগ পেলে ১০নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, জনবান্ধব ও সেবামুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন। মামলা, কারাবরণ, পারিবারিক ত্যাগ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তোফায়েল পাটোয়ারী এখন জনগণের রায়ের প্রত্যাশায় রয়েছেন। তাঁর আশা, বিএনপি তাঁকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০নং পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস এবং ভোটাররা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে মূল্যায়ন করবেন এই প্রত্যাশা।

উল্লেখ্য যে, তোফায়েল পাটোয়ারীর দাবি, বর্তমানেও তিনি ও তার পরিবার একাধিক মামলার আসামী হিসেবে কোর্টে হাজিরা দিতে হয়। তার ছোট ভাই শরীফ আহম্মেদ লিটন (যুগ্ম আহ্বায়ক) মতলব উত্তর উপজেলা যুবদল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here