ছুটির দিনেও দেশজুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং, চরম বিপাকে রাজধানী বাসী

0
ছুটির দিনেও দেশজুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং, চরম বিপাকে রাজধানী বাসী

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও (শুক্রবার ও শনিবার) লোডশেডিং থামছে না। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে খোদ রাজধানীতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের মধ্যেই বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। বিশেষ করে যারা গ্যাসের অভাবে ইলেকট্রিক চুলার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।

সাধারণত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে চাহিদা কম থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সেই প্রচলিত নিয়ম এখন আর খাটছে না। গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের চর্চা এখন গ্রাম থেকে সংসদ পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। নানা রকম প্যারোডি রিলে ছেয়ে গেছে ফেসবুক, টিকটক।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী ২৮ আগস্ট শুক্রবার চব্বিশ ঘণ্টাই কমবেশি লোডশেডিং করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি রাত ১টায় ৩ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওই সময়ে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ১৩ মেগাওয়াট, আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট।উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৯টায় সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হয়েছে ১৫ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট, তখন চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৩৭৮ মেগাওয়াট। এরপর ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমেছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। তখন মাত্র ১৬ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ দিতে না পারায় নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এমনকি সন্ধ্যা ৬টায় চাহিদা যখন ১৪ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট, তখনও লোডশেডিং করায় অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। এখানে তারা বিপিডিবির ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখতে পাচ্ছেন। বিপিডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, গ্যাস সরবরাহ না বাড়ালে লোডশেডিং বন্ধ করা সম্ভব না। গ্যাস ভিত্তিক ১২ হাজার ৯৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট। এখানেই নেই প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট।

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চব্বিশ ঘণ্টা চালানো সম্ভব না। এর বাইরে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে থাকে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে মাত্র ৮৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাতারাবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট বেড়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট (৬০০ মেগাওয়াট) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। যে কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আমাদের প্রকৌশলীরা সারিয়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। বিপিডিবি যখন গ্যাসের অপেক্ষায় বসে রয়েছে তখন নিকট ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো তো দূরের কথা বর্তমান উৎপাদন ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে পেট্রোবাংলা। অন্যদিকে আগামী ২ বছরের মধ্যে গ্যাস আমদানি বাড়ানোর সুযোগও ক্ষীণ বলা যায়। আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি অনেক যদি ও কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)। চাহিদা ধারণা করা হয় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর থেকে সারাদেশে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। আবাসিক থেকে শুরু করে, শিল্প, সিএনজি এবং বিদ্যুৎ খাতও ধুঁকছে।

এফএসআরইউ মেরামত হলেও এলএনজি সংকটের কারণে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের জায়গায় মাত্র ২৩০০ মিলিয়নের মতো সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে সরবরাহ ২৭০০ মিলিয়নে ফিরতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here