প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে এক বিধবা নারীকে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি,মারধর এবং ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শানু খন্দকার ওরফে খাস ইসমাইল-এর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজানপাড়া এলাকার বিধবা মরিয়ম বেগম।
মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি শানু খন্দকার ওরফে খাস ইসমাইল বিভিন্নভাবে তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন। প্রতিবাদ করলে মারধর,ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েক জন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয়রা জানান মরিয়মের জমি ও বসতভিটা শানু খন্দকার নিজের দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের কথা বলেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে কথিত ঘের ও মাছ বেরিয়ে যাওয়ার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান কোনো কিছুই দেখা যায়নি। আশপাশের জমিতেও ঘের ভরাটের পর পর্যাপ্ত পানি থাকার বিষয়টি দেখা যায়নি।
একাধিক স্থানীয়রা জানান,জমি ও মাছের ঘের সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বিধবা মরিয়মকে মারধর, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভিটেমাটি ছাড়ার হুমকির অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সমাজসেবক সেলিম মিয়া বলেন, মরিয়ম একজন বিধবা নারী। দুই সন্তান নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন। দলিল অনুযায়ী ঐ জমি বিধবা নারীর দখলে রয়েছে। তাকে নিয়ে এ ধরনের বিরোধ ও ভয়ভীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা দরকার।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, শানু খন্দকার ঐ জমি জোরপূর্বক নিজের দাবি করে একজন বিধবা নারীকে মারধর ও মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিটেমাটি ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসনের উচিত সরেজমিনে তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া।
ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম বলেন, আমি স্বামীহারা নারী। দুই সন্তান নিয়ে নিজের ভিটায় বসবাস করছি। প্রতিনিয়তই আমার দলিল অনুযায়ী দখলী জমি ছাড়তে হামলা-মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন এবং ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করছেন ভূমিদস্যু শানু খন্দকার। এছাড়াও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন,সুষ্ঠু তদন্ত করে নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং বসতভিটায় নির্বিঘ্নে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল খন্দকার বলেন, ওই এলাকায় আমার একটি মাছের ঘের রয়েছে। মরিয়মের লোকজন তার ঘেরের একটি ঝোরা ভরাট করে দেওয়ায় ফাঁক দিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





