প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় কোনো পরিবর্তন না আনলেও নতুন আইনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায় আচরণ বা হয়রানির অভিযোগ করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক।
এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খসড়ার ওপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এরপর খসড়াটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।র্যাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম, হেফাজতে নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়া আইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইন কার্যকর হলে র্যাবের বর্তমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে।
তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে র্যাবের বিদ্যমান বিধান কার্যকর থাকবে।খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর প্রধান থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।
পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।খসড়া আইন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও দায়িত্বের পরিধিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক, সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করাই এসআরবির প্রধান দায়িত্ব হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে নতুন বাহিনীটির। খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। এই কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।
এই কমিটি সাধারণ নাগরিকের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে পৃথক অনুসন্ধান দলও গঠন করা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অনিয়ম, অবৈধ প্রভাব বিস্তার এবং পদোন্নতি বা পদায়নসংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনার আওতায় আসবে।
খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো সদস্য পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের আবেদনের ভিত্তিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির কাছে হস্তান্তর করবেন





