প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আগামীকাল (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন বেলা ১১টায় রাজধানী ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১ টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়া অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট তার জন্ম।
পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ‘পুতুল’ নামে পরিচিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও জীবনের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে তার বোনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে জলপাইগুড়িতেই ইস্কান্দার মজুমদার চা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিস্তা নদীর তীরের এই শহরেই তিনি বিয়েও করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
দিনাজপুরে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানেই তার শৈশব ও কৈশোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটে। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের সামরিক জীবন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নানা অধ্যায়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার জীবনও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি গঠন করেন। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি মূলত একজন গৃহবধূ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেখান থেকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে উঠে আসা ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি বাঁক।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। এরশাদবিরোধী সেই আন্দোলনে খালেদা জিয়া সরকারের সঙ্গে আপস না করার অবস্থান বজায় রাখেন। অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিভিন্ন সময়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথে গেলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সে পথে যায়নি। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার এই অনড় অবস্থানের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি জয়লাভ করে এবং খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হলে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্বে থাকা এবং একাধিকবার সরকার পরিচালনার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া যেমন সরকার পরিচালনা করেছেন, তেমনি বিরোধী দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন সময় আন্দোলন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ও গড়ে তোলেন।জীবনের শেষ সময়ে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। অসুস্থ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ এক অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। তিনি আওয়ামী সরকারের আমলে কারাবন্দি হলে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।





