প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ স্টাফ রিপোর্টার : এবার আদারতের নির্দেশে ১৪৫ ধারার একটি পিটিশন মামলার সরেজমিন তদন্তে না গিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুলাল দেবনাথের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর শাহানা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার সম্পত্তি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলা নং-৮৩০/২০২৫। এর প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে এসিল্যান্ডকে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
এসিল্যান্ডের নির্দেশ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ তদন্তের দায়িত্ব পায়। ২১ সেপ্টেম্বর মামলার হাজিরা প্রদান করতে এসে জানতে পারেন দুলাল চন্দ্র দেবনাথ সরেজমিন তদন্ত না করেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিবাদীপক্ষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বিধায় নোটিশ জারি করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত পক্ষে শাহানা আক্তারকে কোন নোটিশ প্রদান করা হয়নি। পরে লোকমুখে জানতে পারি বিবাদী পক্ষের সাথে অবৈধ লেনদেন করে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ সরজমিনে তদন্ত না করেই বাদীপক্ষকে হয়রানি করার জন্য এমন প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এমতাবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথ এর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ভাবে আবেদন করেন। এনিয়ে দুলাল দেবনাথের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শাহানা আক্তার ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এক সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম দুলাল দেবনাথের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ওই অ্যাডভোকেটের খরিদকৃত জমি দুলাল দেবনাথ ভূমিদস্যুদের নামে নামজারি করে দেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেটি সংশোধন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুলাল দেবনাথ নিজেই মিসকেসের আবেদন করেছেন এবং এনডিসি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিমের সেই লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম। তবে অভিযোগ তুলে নিতে অসম্মতি জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম। শুধু তাই নয় দুলাল দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার।
এ ঘটনায় ওই নারী নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়ার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এলএ শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধু ওই নারীই নয়, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে রহস্যজনকভাবে এসব অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এদিকে নিউজ নারায়ণগঞ্জের হাতে থাকে একটি অডিও রেকর্ডে দুলাল দেবনাথকে বলতে শোনা গেছে আমি উপর মহলে যে পরিমাণ টাকা খরচ করি আমাকে বদলি করে দিলেও ফেরত আসতে মাত্র ২ মাস লাগবে।
সচেতন নাগরিক মতে, এতো এতো অভিযোগের পরও এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কোন প্রকার সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অনেকেও সন্দীহান তবে কি দুলাল দেবনাথের অবৈধ ঘুষের টাকা উপর মহল পর্যন্ত ঠিকই পৌছায়। উপরের দুইটি টেবিল ম্যানেজ করতে হয় এমন বক্তব্যই কি তাহলে সত্য? এমন হাজারো প্রশ্ন দেখা দিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের মাঝে।





