তালতলীতে কিশোরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য: মারধরের অভিযোগের পরও ইউডি মামলা

0
তালতলীতে কিশোরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য: মারধরের অভিযোগের পরও ইউডি মামলা

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (১৪) নামের এক কিশোরকে মারধর করার পর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দুপুরে হযরত আলী মারা যাওয়ার আগে ও পরে তার মা আছিয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে বলেছেন তার ছেলেকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

কিন্তু রাতে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়; মারধরের কারণেই কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে হরিণখোলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে কয়েকজন কিশোর ফুটবল খেলছিল। এ সময় ওই মাঠের পাশ দিয়ে গরু নিয়ে যাচ্ছিল হযরত আলী। হঠাৎ খেলার বলটি গরুর সামনে পড়লে গরু ভয় পেয়ে দৌড়ে যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় শিক্ষক রহিম ঘরামীর ছেলে মুছা ঘরামীসহ কয়েকজন মিলে হযরত আলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অর্থাভাবে শনিবার চিকিৎসা করতে না পারায় হযরত আলীর চাচাকে সংবাদ দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে ঢাকা থেকে তার চাচা এসে ভাতিজাকে রোববার বেলা ১২টার দিকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালেই দুপুর ১.৩০ মিনিটের সময় তার মৃত্যু হয়।নিহতের মা আছিয়া বেগম একজন বিধবা ও দরিদ্র নারী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামী হারানোর পর একমাত্র সন্তান হযরত আলীকেই আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন তিনি। স্বামী হারানোর পর একমাত্র ছেলেকেই ঘিরে ছিল তার সব স্বপ্ন। সেই সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি বাকরুদ্ধ ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা। স্বজনদের ভাষ্য, মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য বা সামাজিক শক্তি না থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যু মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহতের একাধিক স্বজন বলেন, হযরত আলী ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। এখন ছেলেকে হারিয়ে তিনি দিশেহারা। মামলা চালানো বা পরামর্শ দেয়ার মত পরিবারে শক্ত কেউ নেই। অন্যদিকে আছিয়া একা থাকার কারণে তাকে ভয়-ভীতিও দেখানো হচ্ছে। এবং আছিয়াকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সান্তনা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হত্যাকাণ্ড এখন অপমৃত্যুতে পরিণত হয়েছে। তবে উচ্চপর্যায়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে ও ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে আসল গুরু রহস্য বেরিয়ে আসবে।

তালতলী থানার ওসি তদন্ত শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আঘাতের প্রমাণ মিললে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here