প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে । এ উপজেলায় ৪২ হাজার ৪৫০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। ওবিবার (২৮ জুন-২০২৬) সকালে উপজেলার দক্ষিণ ব্যাসদী সরকারি মডেল প্রাাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ কুলসুম মনি।
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ সহ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মতলব উত্তর উপজেলার ১ টি স্থায়ী ও ৩৬০ টি অস্থায়ী কেন্দে এ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা.মোবারক হোসেন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ভাসান চন্দ্র কীর্তনীয়া,হেলথ্ ইন্সপেক্টর ইনচার্জ সুভাষ চন্দ্র সরকার।
এদিকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা.নুরে আলম দীন মতলব উত্তর উপজেলার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় সিভিল সার্জন ডা.নুরে আলম দীন বলেন, শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। শিশুর সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন শিশু যেন ভিটামিন খাওয়ানো থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সকলকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে সিভিল সার্জন ডা.নুরে আলম দীন বলেন, একটি শক্তিশালী ও উন্নত জাতি গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেমন একটি মজবুত ভবন নির্মাণে শক্ত ভিত্তি অপরিহার্য, তেমনি উন্নত জাতি গঠনের ভিত্তি হলো সুস্থ ও নিরাপদ শৈশব। এবারের ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই উন্নতমানের ক্যাপসুল দেশে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন খাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এভাবে লক্ষ্যভুক্ত সব শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা চলবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস জানান, ভিটামিন ‘এ’ শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করে। ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ কুলসুম মনি বলেন,রোগ প্রতিতরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ‘এ’ শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়। অভিভাবকদের শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে করতে হবে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১ টি স্থায়ী ও ৩৬০ টি অস্থায়ী কেন্দ্রে ৪২ হাজার ৪৫০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ২৪৫ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮হাজার ২০৫ জন শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।





