আগের তুলনায় বাজারে আসছে বেশি ইলিশ, দামও কম

0
আগের তুলনায় বাজারে আসছে বেশি ইলিশ, দামও কম

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ দীর্ঘদিন বাজারে ইলিশের হাহাকার। চাহিদার তুলনায় জালে ইলিশ কম ওঠায় দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। মাঝে ভারত থেকেও আমদানি হয়েছে ইলিশ, তা আবার বন্ধ হয়ে গেছে। তবে স্বস্তির দেখা মিলেছে বরিলাশের ইলিশ বাজারগুলোতে। আগের তুলনায় বাজারে আসছে বেশি ইলিশ, কমেছে দামও। ব্যবসায়ী ও আরতদাররা বলছেন, নদ-নদীতে আগের তুলনায় অনেকটা বেশি ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে, পাশাপাশি সমুদ্রেও মিলছে প্রচুর পরিমাণে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় এবং দাম কমে যাওয়া স্বস্তির খবর। তাদের দাবি,  ইলিশের আমদানি আগামী সপ্তাহে অনেক বাড়বে এবং প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে।ভোলার বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সামরাজ ঘাটে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে একের পর এক ইলিশ মাছভর্তি ট্রলার। আড়তদারদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের উচ্ছ্বাস আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণে মুখর কেন্দ্রটি।

অথচ সপ্তাহখানেক আগেও এখানে মাছের জন্য হাহাকার ছিল। এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ মণ ইলিশ মাছ আসছে। ফলে মাছের দাম প্রতি কেজিতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ী-ক্রেতাদের। একই চিত্র দেখা গেছে সামুদ্রিক ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত বরিশালের মহিপুর, আলিপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ইলিশসংকটের পর এখন এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ২০০ মণের ওপরে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে, এক কেজি বা তার ওপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার ৮০০ টাকা দরে।
সপ্তাহখানেক আগেও এর দাম ছিল দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে এটাই পানির দর।বরিশালে নদীর ইলিশের পাইকারি মোকাম পোর্ট রোড মৎস্য আড়ত। এখানে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকা মণ। এতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম হয় দুই হাজার ২৫০ টাকা, সপ্তাহখানেক আগেও দাম ছিল দুই হাজার ৮০০ টাকা। পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সভাপতি জহির সিকদার বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) ২২০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এর আগে যেখানে ৭০ থেকে ১০০ মণের ওপর উঠত না। তিনি বলেন, আগে কেজির ওপরে  ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আজ বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকা দরে। এ ছাড়া ৭০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৯ হাজার টাকা থেকে কমে ৭০ হাজার টাকা; ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮৫ হাজার টাকা থেকে কমে ৫০ হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। এভাবেই সাইজভেদে ইলিশের দাম অনেকটা কমেছে। তার মতে, ইলিশের আমদানি আগামী সপ্তাহে অনেক বাড়বে এবং প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে। মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, এখন প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ মণ সামুদ্রিক ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে এর অর্ধেকও আসত না।
এখন এক কেজি বা তার ওপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা মণ, কয়েক দিন আগেও ছিল এক লাখ টাকার ওপরে। প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কারণে দাম অনেক কমে গেছে। আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রহিম খান বলেন, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ৭৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। চরফ্যাশন সামরাজ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তারেক আজিজ বলেন, ইলিশের আমদানি এতটা বেড়ে গেছে যা চিন্তার বাইরে। তাই দাম অনেক কমে গেছে। এক কেজি বা তার ওপরের সাইজের ইলিশ ৭৫ হাজার টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বরিশাল নথুল্লাবাদ মাছ বাজার এলাকায় শ্যামল সরকার নামের এক ক্রেতা জানান, ৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ তিনটি নিয়েছি। দাম পড়েছে এক হাজার ৮০০ টাকা কেজি। বেশ কয়েক দিন আগেও এই সাইজের ইলিশ দুই হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের পর ৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়বে বলে তিনি ধারণা করছেন। সমুদ্রের ইলিশও পর্যাপ্ত পরিমাণে আসছে। তাই দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here