প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ নিজস্ব সংবাদদাতা: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের “ডিজিটাল ল্যাব” তালাবদ্ধ থাকে। ল্যাবগুলোতে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেগুলো দিয়ে কোনো কাজ হয় না। কোটি টাকার সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে; শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা ও আইসিটি ক্লাসের নামে চলছে প্রতারণা।শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের নামে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লোক দেখানো ক্লাস হয়েছে।
কোথাও কম্পিউটার নেই কিন্তু শিক্ষক আছে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে তার সবগুলোই নষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা ও আইসিটি ক্লাসের নামে চলছে প্রতারণা।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ২ টি মাদ্রাস ১টি কলেজ ও ২০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের জন্য কম্পিউটার। শিক্ষার্থীদের আইসিটি ক্লাসে কম্পিটার বিষয়ক শিক্ষা দেওয়ার জন্য আলাদা ল্যাব করা হয়।
লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে ল্যাপটপ দেওয়া হলেও সেগুলো দেওয়ার পর থেকেই ছিল নষ্ট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধনাগোদা তালতলী স্কুল এন্ড কলেজ,ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,লুধুয়া স্কুল এন্ড কলেজ,মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, নীল নগর উচ্চ বিদ্যালয়, আলী আহাম্মদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের,অধিকাংশ ল্যাপটপ গুলোই নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। বেশিরভাগ সময় ল্যাবগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। ধুলাবালু জমে সেগুলো অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ধনাগোদা তালতলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফারুকুল ইসলাম জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের ল্যাব টেকনিশিয়ান দিয়ে ল্যাব টি পরিচালনা করছি।যে ল্যাপটপ গুলো দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের আমার এখানের ১১ টি ল্যাপটপের মধ্যে তিনটি ল্যাপটপ পুরোপুরি অকেজো, বাকি গুলো সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ জানান, আমার ল্যাবের ৯০% ল্যাপটপই নষ্ট। শুধু মাঝেমধ্যে প্রজেক্টর দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়।
লুধুয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেন জানান,আমাদের ল্যাপটপ গুলো বেশিরভাগই অকেজো হয়ে আছে। কিছু ল্যাপটপ নিজেদের অর্থায়নে সার্ভিসিং করে ল্যাব পরিচালনা করছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু শিক্ষার্থী জানান, আইসিটি ক্লাস নামমাত্র অনিয়মিতভাবে নেওয়া হয়।কিন্তু প্রজেক্টর বা আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে কখনোই ক্লাস করানো হয় না। ফলে সব প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে তা কোনো কাজেই আসছে না।
মতলব উত্তর উপজেলার আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান জানান,যখন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন তাদের সাথে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল যে ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে তখন যা যা প্রয়োজন তা আমরা সবকিছু দিব। কিন্তু পরবর্তীতে কোন কিছু সার্ভিসিং প্রয়োজন হলে তারা তা নিজ অর্থায়নে করবে। তারা নিয়মিত ল্যাব ব্যবহার না করার কারণে ল্যাপটপ গুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এ গুলো ফেলে রাখেন। ফলে তা একদিন অচল হয়ে যায়। মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি মতলব উত্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি, আপনার মাধ্যমে বিষয়টা অবগত হলাম। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমি আইসিটি শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকদের ডেকে আনবো। তাদের করা বার্তা দিবো। যাতে তারা ল্যাবগুলোকে সচল করে। যদি তারা এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান,ল্যাব গুলো উপজেলা আইসিটি অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকে।ওনার কাছে বিষয়গুলো জেনে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।





