প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দুবারের সাবেক মেয়র, সৃষ্টিশীল জনপ্রতিনিধি ও ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ রফিকুল আলম জজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন । (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ক্যানসারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জ্যেষ্ঠ চাচাতো ভাই মোঃ মিরাজ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন রফিকুল আলম জজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ দেশে আনতে দু-এক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ গ্রাম মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার জজনগরে তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পৌর এলাকার জজনগর গ্রামের মরহুম আবু নাছের ওয়াহেদের ছেলে। সাবেক দুই বারের মেয়র আলহাজ¦ রফিকুল আলম জজ ছিলেন জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জজ আইডিয়াল কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘ সময় স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৭ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সে সময়ের অন্যতম তরুণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পান। পরে দ্বিতীয়বারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং সর্বশেষ ১৯৯৭-৯৮ সালে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন।
ছেংগারচর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালের উপনির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে পৌরসভার দায়িত্ব পালন করেন। তার জ্যেষ্ঠ চাচাতো ভাই মোঃ মিরাজ বলেন, আমার ভাই ছিলেন, নির্লোভ ও সততাবাদী আর্দশের একজন মানুষ। দায়িত্ব ক্ষেত্রে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময়ে একজন দক্ষ প্রশাসক ও বর্ষিয়ান পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে দলমতের উর্ধ্বে থেকে জনকল্যাণে কাজ করেছেন তিনি।
আজকে আমরা একজন বিশিষ্ট সমাজ সেবক,শিক্ষঅনুরাগী ও একজন গুণী মানুষকে হারালাম। যা এলাকার জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শুধ একজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না, ছিলেন একজন দূরদর্শী উন্নয়নের রুপকার। মিরাজ আরও বলেন,একসময় যে এলাকায় চলাচলের মতো পর্যাপ্ত রাস্তা-ঘাট ছিলোনা, তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে আজ গ্রামের ভেতর পর্যন্ত উন্নত সড়ক পৌছে গেছে। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা,অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক উন্নয়নে তার অবদানচিরস্মরনয়ি হয়ে থাকবে।
তিনি জীবগাঁও জেনারেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠাতা করে শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাাঁড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে বৃদ্ধাশ্রমে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে প্রতি শুক্রবার দরিদ্র,অসহায় এবং বৃদ্ধাশ্রমের মানুষগুলো বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়-যা মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার কর্ম, তার সততা, মানবিকতা, সমাজ সেবা এবং উন্নয়নের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে।
তাঁর মতো জনবান্ধব, মানবিক ও সৃষ্টিশীল জনপ্রতিনিধি সমসাময়িক সময়ে বিরল। তাকে যেন মহান আল্লাহ পাক জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন। জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আলী হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সাবেক মেয়র রফিকুল আলম জজের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। পৌরসভার পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তনেওয়া হবে।’ এদিকে তাঁর মৃত্যুতে ছেংগারচর পৌরসভায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মরহুমের স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন।





