প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জেলা সংবাদদাতা: নরসিংদীর বেলাবোতে নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সুয়ারেজ ট্যাংকের বালু-পানিতে আটকে ছিলেন এক রাজমিস্ত্রি। এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে ট্যাংকের চারপাশের মাটি কেটে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কুকুরমারা (শান্তিপুর) এলাকার নির্মাণাধীন একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিমেন্টের চাকে ১৪ ফুট গভীরে তিনি বালু-পানিতে আটকে যান তিনি।
ভুক্তভোগী রাজমিস্ত্রি মো. সোহরাব হোসেন (৪০) বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে কুকুরমারা এলাকার মো. রুস্তম আলীর ছেলে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে চারজন শ্রমিক নিয়ে সোহরাব কুকুরমারা গ্রামের হারুন মিয়ার বাড়িতে নতুন বাথরুমের সুয়ারেজ ট্যাংকি নির্মাণের কাজ করছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৯টি রিং স্ল্যাব (সিমেন্ট নির্মিত চাক) বসানো হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় তারা দেখেন, রিং স্ল্যাবের ভেতরে বেশ পানি জমে গেছে।
পানি সরিয়ে দিতে সোহরাব নিজেই ১৪ ফুট গভীরে নেমে পড়েন। এ সময় বালু-পানিতে তার পা আটকে যান। কোনোভাবে উঠে আসতে পারছিলেন না তিনি। অনেক চেষ্টার পরও পা তুলতে না পেরে ওপরে থাকা শ্রমিকদের সহযোগিতা চান তিনি। শ্রমিকরা বিষয়টিকে দুষ্টুমি ভেবে হাসাহাসি করছিলেন। দীর্ঘসময় পার হয়ে যাওয়ার পরও সোহরাব উঠতে না পারায় অপর তিনজন শ্রমিক নেমে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপরই তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।
সবাই মিলে চেষ্টার পরও উদ্ধার করতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন তারা।রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেলাবো ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা প্রথমে মই নিয়ে ১৪ ফুট গভীরে নেমে তাকে টেনে তুলে আনার চেষ্টা চালান। তাকে কোনোভাবে টেনে ওপরে তোলা যাচ্ছিল না। একে একে ৯টি রিং স্ল্যাবও উঠিয়ে ফেলেন তারা। তাতেও কাজ হয়নি। রাত ১২টায় তারা একটি এক্সকাভেটর আনান
এক্সকাভেটর দিয়ে তারা চারপাশের মাটি কেটে ফেলেন। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দ্রুত বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি থাকার পরামর্শ দেন। বাড়ির মালিক হারুন মিয়া জানান, বালু-পানিতে পা আটকে যাওয়ার এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। এছাড়া পুরো এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেছে বলেও শুনেননি।
রাজমিস্ত্রি সোহরাব হোসেন বলেন, বালু-পানিতে ১২ ঘণ্টা আটকে থাকার সময়টা যে কেমন ছিল, বলে বুঝাতে পারবো না। বেঁচে ফিরেছি, আল্লাহর রহমত। এখনও ঘোরের মধ্যে আছি তবে শরীর সুস্থ আছে। ফায়ার সার্ভিস ও এলাকার যুব সমাজের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দা তানজিনা আফরিন বলেন, ভোরে ওই রাজমিস্ত্রিকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়।
তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। তিনি সুস্থ ও ঠিকঠাক আছেন। আজ দুপুরে বেশ ভালো বোধ করছেন বলে জানান এবং বাড়ি চলে যেতে চান। আমরা তাকে ভর্তি রাখতেই চেয়েছিলাম কিন্তু তার অনুরোধে ছাড়পত্র দিয়েছি। বেলাবো ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মনজুরুল কাদির বলেন, রাজমিস্ত্রি সোহরাবের পা সর্বশেষ রিং স্ল্যাবের নিচে বালু আর পানির চাপে আটকে ছিল।
তাকে টেনে তোলা যায়নি, সবগুলো রিং স্ল্যাব এক এক করে সরিয়েও তাকে উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে এক্সকাভেটর এনে চারপাশের মাটি কাটা হয়। এরপরই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এমন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতিতে এর আগে পড়িনি। সৌভাগ্যের বিষয়, তাকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, আমি রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই ছিলাম।
বাড়িটি নদীর ঠিক পাড়ে হওয়ায় নিচে শুধু বালি ছিল, কোনো মাটি ছিল না। সেখানে ৯টি রিং স্ল্যাব বসানোর পর পানি উঠে গেলে ওই পানি সরাতে নিচে নেমেছিলেন ওই রাজমিস্ত্রি। সেখানে সর্বশেষ রিং স্ল্যাবের নিচে বালু সরে গিয়ে তার পা আটকে যায়। পরে বালু-পানির চাপে আটকে পড়ে তিনি পা উঠাতে পারছিলেন না। বালুর চাপ যে কী পরিমান হয় তা শুনেছি এতদিন, এবার নিজের চোখে দেখা হল। ১২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ওই রাজমিস্ত্রি এখন সুস্থ আছেন।





