বৃষ্টিতে কপাল ভাঙলো লবণচাষিদের স্বপ্ন

0
কপাল’‌ভাঙা

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জেলা সংবাদদাতা: বৈশাখের তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে মাঘ-ফাল্গুন-চৈত্র মাসের তিনদিনের লবণ একদিনেই উৎপাদন হয়। এসময়ে মাঠে কর্মব্যস্ততা থাকে চাষিদের। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে কক্সবাজারে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে লবণ উৎপাদন। এতে মৌসুমের শেষ লগ্নে রেকর্ড উৎপাদনের স্বপ্নভঙ্গকে এখন ‌‘ভাঙা কপাল’ হিসেবে দেখছেন কক্সবাজার উপকূলের লবণচাষিরা।

লবণ উৎপাদন মৌসুম শেষ হয় ১৫ জ্যৈষ্ঠ। সে অনুযায়ী মৌসুম শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস বাকি। তবে বৃষ্টিতে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেনার চিন্তা চাষিদের ঘুম হারাম করেছে। এ অবস্থায় মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে কালবৈশাখী। লবণ শিল্পে ‘কালবৈশাখী’কে অশনিসংকেত মনে করছেন লবণচাষিরা।চাষিদের মতে, বৃষ্টির ফলে একবার লবণ উৎপাদন বন্ধ হলে তা আবার শুরু করতে সপ্তাহ লেগে যায়।

গত ৬ এপ্রিলের বৃষ্টিতেও টানা সাতদিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। সবশেষ বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ২৮ এপ্রিল থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। ফলে, কক্সবাজার উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার (২ মে) ভোর ৬টা থেকে রোববার (৩ মে) ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৪৮মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশে অনেক মেঘ জমে রয়েছে। যে কোনো সময় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। ভারী বর্ষণ হলে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। চাষিরা জানান, ঝোড়ো হাওয়া আর হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে তছনছ হয়ে গেছে হাজার হাজার একর লবণ চাষ।

একদিকে প্রকৃতির রোষ, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্যের অভাব—দুদিক থেকে চাপে পড়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন উপকূলের ৪২ হাজারের বেশি চাষি। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, তীব্র দাবদাহের কারণে উপকূলে লবণ উৎপাদন রীতিমতো রেকর্ড ছুঁয়েছিল। দৈনিক উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে লাফিয়ে উঠেছিল ৩২ হাজার মেট্রিক টনে।

কিন্তু সেই উজ্জ্বল মুহূর্তকে ম্লান করে দিল কালবৈশাখীর দুদফা আঘাত। বৈশাখের শুরুতে একবার, তারপর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বর্ষণ—এ তিন দফা ধাক্কায় শতভাগ লবণমাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here