পরকীয়ার জেরে মতলব উত্তরে বৃদ্ধাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, সহকারী পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

0
পরকীয়ার জেরে মতলব উত্তরে বৃদ্ধাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা, সহকারী পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পরকীয়াজনিত জেরধরে পারুল বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে। রোববার (০১ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকন্ডটি সংঘটিত হয়। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত হালিমা আক্তার ও আশরাফুল ইসলাম মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে ইতালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক মিঠুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মিঠু হালিমার মাধ্যমে শাশুড়ি পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। হালিমা এতে রাজি না হলে মিঠু তার স্বামীকে অবৈধ সর্ম্পকের কথা জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে চাপে পড়ে হালিমা হত্যার পরিকল্পনায় সহযোগিতা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠু গোপনে প্রবাসী নুর ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে মিঠু তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘর থেকে স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। হত্যাকন্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে হালিমার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়, যেন এটি ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হয়।

প্রতিবেশী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন। ঘরে ঢুকে তিনি পারুল বেগমকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।

নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। পরকীয়ার জেরে তার মা নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকান্ড ব্যবহৃত আলামত ও লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here