কার ভাগ্যে নাঃগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের তিলক !

0
কার ভাগ্যে নাঃগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসের তলিক

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করার অপরাধে মামলা হামলা, গুম খুন, নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর, ৫ আগষ্ট হাসিনার পতনের পর বেশ দিব্বি আরামে বিএনপি নেতারা। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোটকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সরকার গঠনের ১৫ দিন অতিবাহিত হতে না হতেই রাজপথের ত্যাগী নেতাদের ধারাবাহিকতার সহিত মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন দলের হাই কমান্ড।সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি করে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

ত্যাগী নেতাদের এই মূল্যায়নকে বেশ ভাল ভাবেই গ্রহন করে নিচ্ছে দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজপথে থাকার কারনে দল থেকে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে এ্যাড. আবুল কালাম, ৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, ২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ ও ১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াকে মনোনয়ন দিয়ে সম্মান দিয়েছেন হাই কমান্ড। আর সেই সম্মান রক্ষা করে দালের হাই কমান্ডের হাতে জয়ের মালা তুলে দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিয়েছেন মনোনিত প্রার্থীরা।

এর পরেই ধারাবাহিকতার সহিত নেতৃত্ব দেয়া রাজপথের নেতাদের মূল্যায়ন করতে একটুও কারপন্যতা করছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য ও নাসিক প্রশাসকের পর এবার পালা জেলা পরিষদ, সদর ও বন্দর উপজেলার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্ব প্রদানের। তবে সব কিছু পিছনে ফেলে এবার সবার নজর জেলা পরিষদের দিকে।জেলা পরিষদের কাকে দেওয়া হবে প্রশাসকের দায়িত্ব এই প্রশ্নটি যখন স্থিানীয় রাজনৈতিক মহলে উত্তাল ঠিক তখনই গুঞ্জন শোনা যায় একাধিক নেতাদের নাম।

এর মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব ও বিএনপি নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। তবে আলোচনায় থাকা এই সকল নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও যোগ্যতার বিচারে সকলকে ছাড়িয়ে সিনিয়র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে এগিয়ে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

কারন যারা আজকে তার সাথে যারা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে প্রতিদন্ধিতায় আলোচনায় রয়েছেন অধিকাংশ নেতাই তার হাত ধরে রাজনৈতিক হাতেখড়ি বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।এক সময়ে রাজপথ কাপানো বিএনপি’র ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত ছাত্রদলের স্থানীয় রানীতিতে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর অবদান কখনই মুছে ফেলা যাবে না। কারন বর্তমান সময়ে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব দেয়া অধিকাংশ নেতাই তার হাতে গড়া।

যার নজির ১৯৯১ সালের ছাত্র দলের কমিটি যেটাকে ছাত্রদলের স্বর্ণযুগ বলা হয়।স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দেয়া সুত্র মতে, ১৯৯১ সালে সভাপতি মোবারক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু’র নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের স্বর্ণযুগ ছিলো আর সেই সময় যারা ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাদের মধ্যে অন্যতম।

তিনি যখন জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।তৎকালীন সময় থেকেই তার দক্ষতার ফসল স্বরুপ বর্তমান আমরা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেতৃত্বর সুফল পাচ্ছি। তিনি দায়িত্ব পালন কালে জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের ছাত্রদের খুজে বের করে নেতৃত্ব বিকাশে সহযোগীতা করেছেন।

তাদের নেতৃত্বে গড়া ছাত্রদলের নেতারা হলো বর্তমান জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম-আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুকুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক শাহফতে রেজা রিপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলেল সায়েম, মাহবুব হোসেন,মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন, মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সরকার আলম, মনোয়ার হোসেন শোখন, মনোয়ার হোসেন মন্টি, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা, আবু মন্সুর আব্দুল হালিম, মোস্তাফিজুর রহমান পাবেল, খন্দকার আক্তার হোসেন, লোকমান হোসেন, সেলিম হাসান দিলিপ, মোস্তাক আহম্মেদ, আকতার হোসেন, ফারুক আহম্মেদ রিপন, প্রয়াত রাশেদুর রহমান রশু, শওকত হোসেন মোল্লা, যুবদলের সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক এম এ এম,সেফা সৃষ্টি, দোলোয়ার হোসেন খোকন, শরীফ হোসেন, ইকবাল হোসেন, শরীফ মোল্লা, সৈয়দ আকসির, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, খন্দকার আক্তার হোসেন,আশরাফুল হক রিপন, এড. আমিনুল ইসলাম ইমন, রিপন জাফর, সাবেক জেলা কৃষক দলের শরীফ মোল্লা, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন শিশির, সাগর জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শরিফ মায়া,মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না যারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমান লড়াকু সৈনিকের ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এছাড়াও তৎকালীন সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন যারা এখনও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহন করে আসছেন।এছাড়াও ২০১৭ সালে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দলের হাই কমান্ডকে খুশি করে পুরুষ্কার হিসেবে দায়িত্ব পান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে যা এখনো চলমান রয়েছে। তাছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু দায়িত্ব পাওয়ার পর নাসিক ১৭টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ড এবং দুটি থানা, একটি উপজেলা, ৭টি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি সম্মেলন করে ঘোষনা করার পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুড বুকে স্থান করে নেন।

স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের শেষের কয়েক বছর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠে এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তৎকালিন সময় তাকে ধরিয়ে দিতে পারলেই পুরুষ্কারের ঘোষনা দেন প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ।কারন সেই সময় বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই স্বৈরাচারী সরকারের মামলার শিকার হয়ে অনেকেই কারাগারে আবার কেউ কেউ পলাতন জীবন যাপন করছিলেন।

তখন রাজপথে থাকার অপরাধে এ্যাড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে প্রকাশ্যে গলারটুটি চেপে টেনে হেচঁরে নিয়ে গেছেন তৎকালীন প্রশাসনের সদস্যরা।তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর পাশাপাশি স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব ও বিএনপি নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল সহ সকল নেতাদেরই অবদান রয়েছে যা দলের হাই কমান্ড কখনই অশিকার করতে পারবে না।

যোগ্যতার বিচারে কাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হবে শেষ বেলায় সেটার নিধারণ করবেন বর্তমান সরকার। আর বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার। কার ভাগে্য লাগবে জেলা পরিষদের প্রশাসকের তিলক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here