হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে খালেদা জিয়া

0
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে খালেদা জিয়া

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিন থেকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার (০৩ মে) বিকেল ৪টায় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে সিসিইউতে নেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আমরা তাঁকে সিসিইউতে নিয়ে এসেছি। এখন তাঁর অবস্থা একটু ভালো মনে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন গৃহকর্মী ফাতেমা। হাসপাতালে যাওয়ার সময় মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন ও ডা. এফ এম সিদ্দিকী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময় চিকিৎসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বেগম জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন। মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন। দু-তিন দিনের মধ্যেই তিনি বাসায় যেতে পারবেন। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করা হয়। তখন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলেন, সিটি স্ক্যানে খালেদা জিয়ার ফুসফুসে খুবই সামান্য সংক্রমণ হয়েছে।

যা সত্যিকার অর্থে মাইল্ড পর্যায়েও পড়ে না। তাই খালেদা জিয়ার আগের ওষুধের সঙ্গে নতুন ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিক যুক্ত করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি কেবিনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হয়েছিলো, দ্বিতীয় টেস্টের ফলাফলও ‘পজেটিভ’ আসে। ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরও ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরইমধ্যে তাদের অনেকেই করোনামুক্ত হয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাঁকে কারাগারে যেতে হয়।

দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে বেগম জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনাকালে তাঁর সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত রাখা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here