বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে হেফাজতকে ঢেলে সাজানোর আশ্বাস

0
বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে হেফাজতকে ঢেলে সাজানোর আশ্বাস

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে অরাজনৈতিক আলেমদেরকে নিয়ে হেফাজতকে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির। রবিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, একটি আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে অরাজনৈতিক আলেমদেরকে নিয়ে নতুন করে হেফাজতকে ঢেলে সাজানো হবে।

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরে ওই কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী ফেসবুক বার্তায় বলেন, গত ২০২০ ইংরেজি ১৫ নভেম্বর তথাকথিত হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিলের মাধ্যমে সিন্ডিকেট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যে অবৈধ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমি বারবার অনেক লাইভে এসে বলে এসেছিলাম। এটা একটা অবৈধ কমিটি, সিন্ডিকেট কমিটি। এটা একটা রাজনৈতিক উচ্চবিলাস এবং হেফাজতের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যেকে বিসর্জন দিয়ে এ কমিটিকে গঠন করা হয়েছে। তথাকথিত সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠনের চার মাস-সাড়ে চারমাসের মাথায় এসে দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। এ কমিটিকে বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন কমিটির আমির সাহেব।

তিনি বলেন, আমি এ কমিটি বিলুপ্ত করার যে ঘোষণা এসেছে সেই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। আমি দেশবাসীকে আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) এর মূলধারা হেফাজতে ইসলাম, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে দেশের উন্নয়ন ও দেশের সমৃদ্ধি এবং দেশের ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে হেফাজতে ইসলাম আগামীতে ইসলামের জন্য এবং ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য। ইসলামী আকিদা বিশ্বাস সংরক্ষণের জন্য হেফাজতে ইসলাম কাজ করবে। সে লক্ষ্যে আমরা অতি শিগগিরই আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের নীতি আদর্শের হেফাজতে ইসলামের গঠন করব।

এর আগে রাত ১১টার ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসময় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন হেফাজত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ভিডিও বার্তায় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, প্রিয় দেশবাসী, দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরো বলেন, ইনশাআল্লাহ- একটি আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির নির্বাচিত হয়েছিলেন হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার আমির নূর হোসাইন কাসেমী। যিনি পরে করোনায় মারা যান।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত এক ডজন হেফাজত নেতা গ্রেফতার হন। গ্রেফতার তালিকায় রয়েছে আরও দুই শতাধিক নেতাকর্মী। হেফাজত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চাইলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রস্তাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এরকম সব নেতাকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর মূলত জুনায়েদ বাবুনগরী এ সিদ্ধান্ত নেন।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নেয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হেফাজতের কমিটিতে যুক্ত হতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে নতুন নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ফলে সরকারও বাধ্য হয়ে ইউটার্ন নেয়। সু সম্পর্ক ছিন্ন করে কঠোরভাবে দমন করতে শুরু করে হেফাজতকে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রিয় ১২ জন নেতাসহ গ্রেফতার করা হয় অন্তত ১৮ জনের বেশি প্রথম সারির নেতাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here