প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে আদালতে রায় এলে বর্তমান সরকার ও সংসদ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির নবগঠিত ‘সংস্কার বাস্তবায়ন বিষয়ক কমিটি’ এর আয়োজন করে। তিনি বলেন, জনরায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতে এই সনদকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজের সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করল। এই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে তা ২০২৯ সালে হওয়ার কথা। আদালতে যদি জুলাই সনদ এবং যে আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে—এসবের বিরুদ্ধে রায় আসে, তাহলে এই সরকার ও সংসদ বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেক্ষেত্রে আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানাব বিএনপিকে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে করা রিটের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন সময় জনগণের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একইসঙ্গে জনগণকে আদালতের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন আমরা শুরু করি, সেটাও ওই প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়েই হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি অন্য জায়গা থেকে জানতে পেরেছেন যে, জুলাই সনদের বিরুদ্ধে আদালতে শুনানি হচ্ছে। ওনার জানার মধ্যেও এক ধরনের সন্দেহের উদ্রেক করে। আসলে উনি জেনেছেন, নাকি ওনারাই করিয়েছেন? কেননা আমরা দেখলাম, যারা বিএনপির আইনজীবী হিসেবে পরিচিত, তারাই আদালতে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ আনেন আসিফ। তিনি বলেন, জুলাই সনদে বর্ণিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা করার জন্য বিএনপি আদালতে গেছে। তারা এক ধরনের ‘দ্বৈত খেলা’ খেলছেন। এর মধ্য থেকে তারা নির্দিষ্ট কিছু সংস্কারের বিষয়ে কথা বলছেন। এ সময় তিনি বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে রক্ষা করার এক ধরনের যে পাঁয়তারা, সেটা আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেখে আসছিলাম—তার ধারাবাহিকতাই বর্তমান সরকার রক্ষা করছে। সরকার পুনর্লিখনের জায়গা থেকে সরে এসে সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো সংস্কার করতে চাইছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘জনগণের সরকার গঠিত হলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।
তিনি আরও বলেন,খালেদা জিয়ার ছেলে আজকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর দল আজকে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু তাঁরা এই সংবিধান ছুড়ে ফেলার সাহস করতে পারছেন না। বরং এই সংবিধানকে রক্ষা করছেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে তাহলে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার কথা অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো জনগণের সরকার পায়নি। যেদিন আমাদের সরকার গঠিত হবে, যেদিন প্রকৃত জনগণের সরকার গঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।
এ সময় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এই সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কোনোভাবেই এই সংসদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি তা হয়, জনগণের পক্ষ থেকে আমরা ৩০০ জন সংসদ সদস্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করব। সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ–প্রধান সারোয়ার তুষার, সদস্য আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা, মনিরা শারমিন ও সালেহ উদ্দিন সিফাত প্রমুখ।





