দুই সিটিতে সাড়ে ২১ হাজার কর্মী নিয়ে পশুর বর্জ্য অপসারণ শুরু

0
দুই সিটিতে সাড়ে ২১ হাজার কর্মী নিয়ে পশুর বর্জ্য অপসারণ শুরু

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় কোরবানি করা পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কাজে যুক্ত নিয়োজিত হয়েছেন সাড়ে ২১ হাজার কর্মী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১ হাজার ৫০৮ জন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় ১০ হাজার কর্মী বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত আছেন। বর্জ্য অপসারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং তদারকির জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ একাধিক মনিটরিং টিম গঠন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাশার মো. তাজুল ইসলাম জানান, করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে দুই লাখেরও বেশি পশু কুরবানি হয়েছে। পশু কুরবানির জন্য ৩০৭টি স্থানের ব্যবস্থা করেছে উত্তর সিটি। এসব স্থানে কোরবানির জন্য সর্বমোট ২৫০ জন ইমাম ও ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির নিজস্ব দুই হাজার ৬৬৭ জন এবং অন্যান্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনাসহ মোট ১১ হাজার ৫০৮ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে।

বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য দুটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির বাসিন্দারা বর্জ্য–সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য ০২-৫৮৮১৪২২০, ০৯৬০-২২২২ ৩৩৩, ০৯৬০-২২২২ ৩৩৪ নম্বরগুলোতে ফোন করে জানাতে পারবেন। পরিবেশদূষণ রোধে ১১টি ওয়াটার বাউজার দিয়ে তরল জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি স্প্রের ব্যবস্থা, সাড়ে ৬ লাখ বর্জ্য থলে, ৫০ টন ব্লিচিং পাউডার ও এক হাজার পাঁচ বোতল স্যাভলন উত্তর সিটি সরবরাহ করেছে বলে জানিয়েছেন আবুল বাশার মো. তাজুল ইসলাম।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ড্রেসিং কার্যক্রমে ৫টি এক্সকাভেটর, ৬টি চেইন ডোজার, ১টি টায়ার ডোজার ও ১টি পে-লোডার নিয়োজিত রাখা হবে। অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানিয়েছেন, করপোরেশন এলাকা ও পশুর হাটগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাঠপর্যায়ে তদারকের জন্য ১০টি দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

পশুর হাটের বর্জ্য ও ঈদের দিন বেলা ২টা থেকে ২৪ জুলাই বেলা দুইটা পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির আওতাধীন এলাকা ও পশুর হাটগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে তদারকের জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে এই টিমগুলো গঠন করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটি জানিয়েছে, নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারক করা হবে। করপোরেশনের আওতাধীন যেকোনো নাগরিক তার নিজ এলাকায় সৃষ্ট বর্জ্য–সম্পর্কিত তথ্যাদি পাঠাতে বা পশুর বর্জ্য অপসারণ–সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন।

ডিএসসিসি এবার ৯০টি খোলা ট্রাক, ৫৩টি কম্পেক্টর, ১২টি পানির গাড়ি, ১০২টি ডাম্প ট্রাক, ১৪টি পে-লোডার, ৮১টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ৯টি টায়ার ডোজার, ২টি ট্রেইলার, ৯টি স্কিড লোডারসহ প্রায় পৌনে চারশো যান-যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। নিয়মিত পাঁচ হাজার কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও পাঁচ হাজার কর্মী পশুর বর্জ্য অপসারণে নিযুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু নাছের। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রত্যেক কাউন্সিলরকে এক হাজার করে এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের এক হাজার ৫০০টি পরিবেশবান্ধব থলে দেয়া করা হয়েছে।

তারা এসব থলে বাড়ি বাড়ি বিলি করেছেন। কুরবানির পশুর বর্জ্য এসব থলেতে করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে দেয়ার জন্য নাগরিকদের বলা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে দক্ষিণ সিটিতে প্রায় ৩০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১ হাজার ৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হবে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here