প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সলিসিটর মো. মঞ্জুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মো. আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তাজুল ইসলামের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।
তিনি ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান। জানা গেছে, নতুন প্রসিকিউটার আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। তিনি বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহ ও হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে অন্যতম আইনজীবী ছিলেন। বিডিআর বিস্ফোরক মামলার শুনানিতে আসামিদের খালাস ও জামিনের পক্ষে জোরাল যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়’ তার আইনজীবী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মাধবপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফিয়া আক্তার হেলেনের স্বামী। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
তাকে ঘিরে নিয়োগের শুরু থেকেই বিতর্ক দেশে এবং বিদেশে। তিনি অতীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামারুজ্জামানের পক্ষে ডিফেন্স টিমে ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী পরে একই ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের দায়িত্ব পাওয়ায় তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, যা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করে।এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ও সর্বজনগ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে— এমনটাই বিশ্লেষকদের ধারণা।





