প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ১৬টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন গ্রেডভেদে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিশন।
কমিশন সূত্র জানায়, বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত রয়েছে। আগামী সপ্তাহেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। নবম পে স্কেল প্রণয়নের শুরু থেকেই গ্রেড সংখ্যা কমানোর দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তবে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার পর কমিশন বিদ্যমান ১৬টি গ্রেড কাঠামো বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কমিশনের সুপারিশে শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন অংশের। সরকারি কর্মচারীরা এর আগে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশের আল্টিমেটাম দিলেও কমিশন নিজস্ব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই হবে।
এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সবকিছুই এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নতুন পে স্কেল অনুমোদিত হলে কয়েক দশকের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বড় বেতন কাঠামোগত পরিবর্তনের সুফল পেতে যাচ্ছেন-এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।





