প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে স্থগিত থাকা পূর্ণ কমিশনের সভার নতুন তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পে-কমিশন সূত্র জানায়,আগামীকাল সোমবার অথবা মঙ্গলবার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সভার তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। সম্ভাব্য সময় হিসেবে আগামী সপ্তাহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) পে-কমিশনের একটি সূত্র জানায়, কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানসহ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সভার দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এ সভা নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্ধারণী ভূমিকা রাখতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পে-কমিশনের এক সদস্য বলেন, কাল বা পরশুর মধ্যেই সভার তারিখ চূড়ান্ত করে সবাইকে জানানো হবে। আগামী সপ্তাহে সভা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে প্রয়োজন হলে এর আগে বা পরে সভা আয়োজনের সুযোগও রয়েছে। ওই সভায় অনেক বিষয় চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।
পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে কমিশনের ভেতরে ভিন্নমত রয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেড চালু রয়েছে। কমিশনের একাংশ মনে করে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে যৌক্তিক হারে বেতন ও ভাতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে কমিশনের আরেকটি অংশের মতে, গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন। তাদের প্রস্তাব, বর্তমান ২০ গ্রেডের পরিবর্তে ১৬টি গ্রেড নির্ধারণ করা হলে বেতন কাঠামো আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হবে।
এ ছাড়া কমিশনের ভেতরের আরেকটি অংশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের যুক্তি, গ্রেড বেশি থাকলে বেতন বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বৈষম্য কমাতে গ্রেড সংখ্যা কমানোই যুক্তিযুক্ত। জানা গেছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন থেকে যে মতামত পাওয়া গেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করছে জাতীয় বেতন কমিশন। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন লেখার কাজ শেষ হয়নি।
পে-কমিশন বলছে, তারা বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দিতে চায়। সে জন্য প্রতিটি সংস্থা, দপ্তর ও সংগঠন থেকে পাওয়া প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা যখন চূড়ায়, তখন পূর্ণ কমিশনের সভার তারিখ ও সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।





