১৫ আগষ্ট ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি : এড.মাহবুবুর রহমান খাঁন

0
১৫ আগষ্ট ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি :  এড.মাহবুবুর রহমান খাঁন

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ এড.মাহবুবুর রহমান খাঁন: সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতার বক্তব্যে তারা বলার চেষ্টা করছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। ওনারা এটা বোঝেন না যে এটা বলা মানে হলো সম্পন্ন হওয়া বিচারকে বিতর্কিত করা । যে বিচার কার্য সমপন্ন হয়েছে এবং সেই রায়কে সঠিক ভেবে এবং মেনে বিচারের রায় কার্যকর ও করা হয়েছে অনেকাংশে । একটা দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যে রায় দেওয়া হয়েছে তা সম্পর্কে তাদের আস্থা না থাকাটা দুঃখজনক । যদি বিচারে ভুল থাকে তাহলে ঐ বিচার প্রক্রিয়ায় যাদেরকে সাজা দেওয়া হয়েছে বা মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়েছে তার কি অবস্থা হবে ! আওয়ামী লীগ বিচার প্রক্রিয়ার অসম্পূর্ণতার প্রশ্ন তুলে বিচার বিভাগের উপর তাদের অনাস্থাই প্রকাশ করছে মূলত।

ঐ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পক্ষে যারা আইনজীবী ছিলেন তারাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কেউ কেউ এখনো আছেন । আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে লতায় পাতায় জিয়াউর রহমানের নাম জড়ানোর চেষ্টা করে আসছে বহুদিন ধরে কিন্তু দৃশ্যমান কোন সম্পর্ক দেখাতে পারছে না। কারন বঙ্গবন্ধু খুনের সাথে জড়িতদের সাথে বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্বে বা পরে জিয়াউর রহমানের কোন সম্পর্ক ছিল না । ঐ সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল তাও আওয়ামী লীগ প্রকাশ করতে পারেনি আজো।কারন সেটা প্রকাশ পেলে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আর রাজনীতি করতে পারবে না । আসলে তারা সত্যিকারের ইতিহাসের পরিবর্তে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের ইতিহাস জাতিকে গেলাতে চায়।

আওয়ামী লীগের নেতাদের এই আত্মজিজ্ঞাসাও প্রয়োজন যে এত বড় সংগঠন ও এত এতো বাকশালের বিশাল নেতা-কর্মী এবং রক্ষী বাহিনীর মতো বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেন না ১৫ আগষ্টে এবং এর পরে ? আজ যারা বড় বড় কথা বলছেন বা ঐ সময়ে ৩ বাহিনীর যারা প্রধান ছিলেন, রক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন তাদের কার কি ভূমিকা ছিল! আসল কথা হলো আওয়ামীলীগের হাসান মাহমুদ মার্কা ইতিহাস ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে । আওয়ামী লীগ ক্ষমতার জন্য সব কিছুই করতে পারে ! বঙ্গবন্ধুর খুনিরা জিয়াউর রহমান বেচে থাকতে এদেশে স্হায়ী হতে পারেনি এবং তাদের এদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ও তার ক্ষমতায় আসার আগে । জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর এরশাদ ফারুক-রশিদ চক্রের নেতৃত্বাধীন খুনি চক্রকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্বারা গঠিত দুটি রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি (প্রগশ) ও ফ্রিডম পার্টি কী প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছিল এরশাদের আমলে । এরশাদের আমলেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল । রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভিতে পঁচাত্তরের পর ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৮ ২য় বার সম্প্রচারিত হয় খুনিকণ্ঠ।

রশিদ ১৯৮৮ সালের ঐদিন তাঁর দীর্ঘ ভাষণে কথিত আগস্ট বিপ্লবের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন । আশ্চর্যের বিষয় হলো এ বিষয়ে বর্তমান সরকারি দলের নেতাদের মুখে কোনো কথা শোনা যায় না কারন এরশাদের দল আজ তাদের ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহেরের। তাহের তখন সরকারি সংস্থায় চাকরি করেও জাসদ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঐ সময়ে জাসদের সশস্ত্র শাখা গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন। সেনাবাহিনীর ভেতরে গঠিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থারও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি।

কর্নেল তাহের ১৫ আগস্ট সকালে তার নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে ঢাকার রেডিও স্টেশনে আসেন, বঙ্গভবনে যান এবং খুনিদের নানা পরামর্শ দেন। মোশতাক সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ও তিনি ছিলেন যদি ও তার আসতে একটু বিলম্ব হয়। অথচ আওয়ামী লীগ কর্নেল তাহের এর ভূমিকা নিয়ে ও চুপ থাকে। বিএনপি নামক দলটির প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার কারনে তাদের সকল ক্ষোভ জিয়াউর রহমানের উপর । হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে এনে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলো আর আজ আওয়ামী লীগ তার দলের সাথে একজোট হয়ে রাজনীতি করছে।

এরশাদ তো শেখ হাসিনার বিশেষ দূত ও ছিলেন ! ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগে জিয়ার সঙ্গে কর্নেল ফারুকের একবার কথা হয়; ফারুক তাঁর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে পরামর্শ চেয়েছিলেন। জিয়া তাঁকে বলেছেন, ‘সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে আমি এসবের সঙ্গে থাকতে পারি না।’ এরপর জিয়া তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, ‘ভবিষ্যতে যেন এই লোক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না আসতে পারে।’(তথ্য সূত্র অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বই) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের আগে বা পরে জিয়াউর রহমানের সাথে বঙ্গবন্ধুর কোন খুনির সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল বা মিটিং হয়েছে এরকম কোন তথ্য আজ অবধি আওয়ামী লীগ উপস্থাপন করতে পারেনি ।

তারা একরকম চাপা ও ক্ষমতার জোরে বর্তমান মিথ্যাচার করে যাচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক । ১৫ আগষ্টসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের নিন্দা জানাই ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here