বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি রুখে সাধ্যকার? এড. জেসমিন সুলতানা

0
বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি রুখে সাধ্যকার? এড. জেসমিন সুলতানা

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ ১৯৭১ সাল,মহান মুক্তিযুদ্ধ,রাজাকার,আলবদর,আলশামস বাহিনী, তাদের অত্যাচার,নির্যাতন,জোর,জুলুম হত্যা,ধর্ষন,লুটপাটের কথা কি বাঙ্গালি জাতি ভুলে গেছে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ত্রিশ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে,দুই লক্ষ বোনের আত্ম বিসর্জনের ফসল আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা যেমনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলো, তেমনি সেই মাটিতে বসবাস কারী কিছু কুলাঙ্গার বাংলাদেশে অবস্হান করে মনে প্রানে দেশটি স্বাধীন হোক চাননি।তারা শুধু বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি গঠন করেছে রাজাকার, আলবদর,আলশামস বাহিনী। নিজেরা পাকিদের দোশর হয়ে সরাসরি দেশ মাতৃকার বিরুদ্ধে নিজকে বিলিয়ে দিয়েছে। তাদের অনেকেই হয়তো বেচেঁ নেই, কিন্তু তাদের প্রতাত্মারা আজো সর্বত্র বিরাজমান। অনেকে নতুন পোশাকে, নতুন রূপে আবির্ভূত।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি আমরা পালন করছি,চলছে রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ বার্ষিকী, পরিপূর্নতা পেয়েছে পদ্মাসেতু, করোনা পরিস্হিতির চলছে দ্বিতীয় দফায় ,পরিপূর্ন সফলতা এসব কি সহ্য হয়? তাই বেপরোয়া ক্ষমতা হীনরা।প্রমত্ত নতুন আঙ্গিকে ঘৃন্য পরিকল্পনায়।। তারাই দেশ বিদেশে চালাচ্ছে সরকার বিরোধী প্রপাকান্ডা।। ইতিপূর্বেও দেশ বিরোধীরা পন্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেছিল, সব ষড়যন্ত্রই নস্যাত।জাতির পতাকা খামচে ধরতে চায় সেই পুরনো শকুন।
বাংলাদেশ কে যারা ধারন,লালন, পালন করেনা,মনে প্রানে বিশ্বাস করেনা এ স্বাধীনতা বিরোধীরা অনুমান করেছিলো তাদের একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে,পাপের পরিনতি কি হতে পারে তারা জানতো তাই বিপুল অর্থ ব্যয় করে তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অনেক কেই আইনবিদ্যায়ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করিয়ে এনেছে। বিপুল ব্যয় করেছে নিজেদের রক্ষাকবচ তৈরীতে। আসলে পাপ বাপকে ছাড়েনা, তাই তাদের কেও প্রকৃতি ছাড়েনি তথা কথিত অর্থ ব্যয় কোন কাজে লাগেনি,শাস্তি তাদের হয়েছে।
যেমনি আজ লাগছেনা আল জাজিরার পিছনে লগ্নীকৃত অর্থ ব্যয়।। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে মানুষকে বোকা বানানো হাস্যকর ও বটে।। হঠাৎ করেই আল-জাজিরার কথিত কল্পকাহিনী নিয়ে আবির্ভাব। পয়সা খরচ করে আমাদের দেশেও অনেক ভিত্তিহীন, বানোয়াট বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন বানানো যায়।।কিছুদিন পূর্বে আমরা নিজেরাও এ ধরনের ঘৃন্য পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম। ভার্চুয়াল কোর্টে শুনেছি ভাল করে দুপুরের লাঞ্চ করাও প্রতিবেদন যেন ভাল করে প্রচার করে।ভার্চুয়াল কোর্টে সব রেকর্ড আছে খুঁজলেই সত্যতা পাওয়া যাবে। এ দেশ যে সব সম্ভবের দেশ।প্রয়োজন শুধু অর্থ কড়ি।।
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে চলছে দূর্বার গতিতে। স্বাধীনতা বিরোধীদের এসব মিথ্যা, বকো ওয়াজ সংবাদে পুলকিত হয়ে মনে মনে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই।বঙ্গবন্ধু কন্যা একা ই একশ। তিনি একহাতে সব সামলাতে পারেন।দুষ্টের দমন শিষ্ষ্টের পালন যে তারই মহান ব্রত। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত।অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,সামাজিক অগ্রগতি,কাঠামোগত উন্নয়নে দেশ চলছে আজ স্বপ্নীল গতিতে।। বিশ্বব্যাপি বর্তমান চলমান সমস্যা মহামারী করোনা গত মার্চে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে, সমগ্র পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশও প্রবল আক্রমনের শিকার। প্রায় একবছর হতে চলেছে একজন মানুষ ও না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মারা যায়নি।। ভুখা,নাঙ্গা হতদরিদ্র মানুষকে কেউ দেখেনি।
গত নভেম্বরে চীনের উহান প্রদেশের অবস্হা দৃষ্টে মনে হয়েছিল করোনা আমাদের দেশে এলে সব মেছাকার হয়ে যাবে,আমাদের নেই করোনা মোকাবিলা হাসপাতাল, নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, নেই চিকিৎসার সরন্জামাদী, নেই পিপিই। আমরা নিজেরাও আতংকিত গৃহবন্দী হয়ে আইসোলেশনে ছিলাম। নিজেদের কথাই ভেবেছি।
শুধু দিনরাত জেগে ছিলেন একজনই তিনি মানবতার জননী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।তিনি আঠার কোটি মানুষের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন,মরম মমতায় মানুষের পাশে এসে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্হানীয় প্রশাসনডাক্তার,সেবাকর্মী,পুলিশ,সেনাবাহিনী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সবাইকে একত্রিত করে ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতিটি এলাকার খোঁজ খবর নিয়েছেন মনিটরিং করেছেন। প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা,ব্যবসায়ী,সাধারন মানুষ সবাই মানবতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।বঙ্গবন্ধু কন্যা র লোকেরা ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, চিকিৎসার ব্যবস্হা করেছেন,বিকাশের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। যার সাক্ষী বাংলাদেশের আঠার কোটি মানুষ।
করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ দান করে চলেছে,শিক্ষকগণ ও বেতন ভাতা ঠিকমত পাচ্ছেন।বছরের প্রথমেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলেদেয়া হয়েছে, দেয়া হচ্ছে শিক্ষা উপবৃত্তি।জে, এস,সি ,পিএসসি,এস,এস,সির উপর নির্ভর করে এস,এস,সির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ।।সমালোচনা করা যায় অনেক কিন্তু বাস্তবতা অনেক রূঢ় ও কঠিন। আসলে দূর্মুখরা ভেবেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে,দেশে দূর্ভিক্ষ দেখা দিবে, রাস্তার দুপাশে লাশের সারি থাকবে,ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করে বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাবে , গণকবর রচিত হবে আরো কতো কি। তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে । করোনা মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমনত্রী আজ সফল। দেশ অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ং সম্পূর্ন, রেমিটেন্স বেড়েছে, গড়ে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই তারা নতুন কৌশল অবলম্বনে বিরোধীরা উদগ্রীব।
পেশায় একজন আইনজীবী হিসেবে দেখেছি করোনা আক্রমনের প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের আপাতঃ পেশায় নবীন আইনজীবী ভাই বোনদের কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমরা ইচ্ছে হলেই প্রনোদনা নিতে পারিনা তবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনজীবীদের পাশে দাড়িঁয়েছে,বার এসোসিয়েশন সমূহ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে পাশে থাকার।। পরবর্তীতে আইনজীবীদের দাবীর প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাহস করে ভার্চুয়ালী কোর্ট সমূহ খুলে দেয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেই আজ আমরা জীবন ও জীবিকা দুটোই চালিয়ে যেতে পারছি।
বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সমস্ত বার এসোসিয়েশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন,নতুন বার ভবন নির্মানের জন্য কোটি কোটি টাকা প্রদান করেছেন।বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বহুতল ভবন নির্মান,ব্রিটিশ আমলে গড়া বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের মেরামতের কন্য ১৭ কোটি টাকা প্রদান করেছেন যদিও এ টাকায় নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মান করা যেতো। মোজাইকের উপর টাইলস বসেছে, শত বছরের পুরনো দালানের সুরকী ফেলে নতুন করে সাজানো হচ্ছে আসলেই দেখলে মনে হবে আমরা নতুন জগতে প্রবেশ করছি।সব কিছুর পিছনে একমাত্র অবদান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার।।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু সমাপ্ত করেছেন,স্বপ্নের সেতু দেখলেই মন প্রান জুড়িয়ে যায়,এ আমার দেশ,আমার সোনার বাংলা। মাননীয় প্রধানমনত্রী যা করতে চান তা করে দেখান তাই নিজস্ব অর্থায়নে, আমাদেরই টাকায় করেছেন সুদীর্ঘ প্রমত্তা পদ্মার উপর স্বপ্নের পদ্মাসেতু।কই কারো মুন্ডুপাত ছাড়াই হয়ে গেলো পদ্মা সেতু।। কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়, প্রতিজ্ঞা,সততা আর ইচ্ছে শক্তি হলেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, আর সব গুনে গুণান্বিত বলেই তিনি আজ বাঙ্গালী জাতির একমাত্র আশা ভরসার স্হল আশার বাতিঘর।
৫৮ হাজার বর্গমাইলের ক্ষুদ্র এ বাংলাদেশে লেগে আছে বন্যা, সাইক্লোন,ঝড় বৃষ্টি,নদীভাঙ্গন,মহামারী বাংলাদেশ সরকার সব কিছু সফল ভাবে মোকাবিলা করে বিশ্বে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন তা ভুলে গেলে চলবে কি করে। সফলতার কথা বিশ্বের কথিত টিভিতে আসেনা। হঠাৎ করেই চলে আসা মহামারীতে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির কথা এসেছে।বঙ্গবন্ধু কন্যা কাউকে কি কোন প্রকার ছাড় দিয়েছেন? যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করেছেন।
অপরাধ করে কেউ ছাড় পায়নি,পাবে ও না।।দলীয় পরিচয়ে কেউই বেচেঁ যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশ, আজ ইন্টার নেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করা, শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়াশুনা করা, অনলাইনে ব্যবসা করা , ভার্চুয়ালী বাসায় বসে মামলা করা,ডাক্তার দেখানো, দেশে,দেশের বাইরে যোগাযোগ রক্ষা করা সব সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচেষ্ঠায় ও উদ্যোগে। আমরা আসলে কৃতজ্ঞ জাতি,কিছুই স্বীকার করিনা।
বঙ্গবন্ধু কন্যা এগিয়ে আছেন,এগিয়ে যাবেন তার অপ্রতিরোধ্য গতির কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ।। কি ছোট করে দেখবেন? কি অপবাদ ছড়াবেন যুদ্ধাপরাধীদের মদদ পুষ্ট আল জাজিরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শাসনআমলে বঙ্গবন্ধু হত্যামামলা চুড়ান্ত ভাবে শেষ করেছেন। ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামীরা বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে আছে, কই আল জাজিরা তাদের অবস্হা,অবস্হান, আশ্রয়দাতা দেশের নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছেন না কেন? একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হয়েছে, কারো ফাঁসি হয়েছে তাই অতোটা জ্বালা।
বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করেছে,মেট্রোরেল সমাপ্তির পথে,,এলিভেটেড এক্সপ্রেস,নতুন নতুন উড়ালসেতু, কর্ণফুলী টানেল,মহাসড়ক গুলোর চার লেনে উত্তোলন,রেল যোগাযোগ,দেশের,বিদ্যুত চাহিদা মিটানো,গার্মেন্টস চালু রাখা,, গৃহহীনের গৃহ সহ জমি দান,খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন,মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি,ফোর জি র ব্যবহার,নারীর ব্যাপক ক্ষমতায়ন এসব উন্নয়ন নিয়ে সত্য,বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন, ডকুমেন্টারী তৈরী করুন। তাহলেই ইসলামী নাম আল জাজিরা নামের অর্থ সার্থকও অর্থবহ হবে।
মা,মাটি,দেশ সবারই প্রিয়।তাই প্রিয় দেশকে ভালবাসুন,দেশের মানুষকে ভালবাসুন। বিদেশের মাটিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া দেশ দ্রোহিতা সামিল।।এসব থেকে বিরত থেকে দেশকে ভালবাসি, সবাই মিলে গড়ে তুলি সুখি সমৃদ্ধ ঝলমলে সোনার বাংলাদেশ
জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
জেসমিন সুলতানা
এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here