না’গঞ্জে মন্ডপে মন্ডপে প্রস্তুতি সম্পন্ন, বুধবার মহালয়ায় শুরু পূজা

0

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি মন্ডপে মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি। এবার জেলার মোট ২১৫ টি পূজামন্ডপে উদযাপিত হবে দুর্গাপূজা। এ ছাড়াও অনেকে করোনার কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিজ বাড়িতে আয়োজন করেছেন পূজার।

বুধবার (৬ অক্টোবর) মহালয়া দিয়ে দেবী পক্ষ শুরু হবে। মন্ডপে মন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। এর মধ্যে শহরের প্রতিটি মার্কেটে চলছে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা। এবারে দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়ায়) মর্ত্যলোকে আসবেন এবং দোলায় (নৌকা) চড়ে আবারো কৈলাশ পর্বেতে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন। প্রতিমা শিল্পীরা এখন ব্যস্ত প্রতিমার গায়ে তুলির শেষ আচঁড় এঁকে দিতে।

আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দেবীর দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ১৪ অক্টোবর মহানবমী এবং ১৫ অক্টোবর বিজয় দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল উৎসব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার হিসাবে, এবার জেলায় প্রায় ২১৫টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গতবারের তুলনায় ১০টি বেশি।

বুধবার শহরের বেশ কয়েকটি পূজা মন্ডপ ঘুরে পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা গেছে। দেবীকে স্বাগত জানাতে সবখানেই এখন সাজ-সাজ আবহ। মন্ডপে মন্ডপে মাটি আর খড়ের গন্ধ মিলেমিশে একাকার। কোথাও দেবীর হাতের আঙ্গুল বানানো হচ্ছে আবার কোথাও পরম যত্নে শিল্পী তৈরি করছেন দেবীর মুখের ছাঁচ। নিরাভরণ দুর্গা প্রতিমার দিকে দৃষ্টি ফেললে মনে হচ্ছে শিল্পীর হাতের যাদুতে মহালয়ার আগেই প্রাণ পেয়েছে দেবী দুর্গা। শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় বলদেব জিউর আখড়া শিব মন্দিরের পূজা মন্ডপে এখনো রয়েছে গত বছরের প্রতিমা।

প্রথা অনুযায়ী, আগের বছরের প্রতিমা বিসর্জন করে ষষ্ঠীল দিন নতুন প্রতিমা উঠাবে মন্ডপ কর্তৃপক্ষ। পূজা মন্ডপের পাশেই নির্মাণ হচ্ছে প্রতিমা। প্রতিমা দেখে বোঝা গেলো এবারো দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। কাঠামো নির্মাণ এই মাঝে শেষ। এখন বাকি রঙে সাজিয়ে তোলা। প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিমাশিল্পী সুমন পাল এবারো এখানকার প্রতিমাটি নির্মাণ করছেন।

নারায়ণগঞ্জের শহরের টানবাজার, সাহাপাড়া, মিনাবাজার, ডালপট্টি, নিতাইগঞ্জ, আমলাপাড়া, গলাচিপা, উকিলপাড়া, চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, নন্দীপাড়া, পালপাড়া, নতুন পালপাড়া, দেওভোগ রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, দেওভোগ দুর্গা মন্দির সহ শহরের বিভিন্ন মহলায় ছোট বড় আকারের পূজা হয়। এসব পূজা দেখতে ষষ্ঠী থেকে দশমীর ভোর পর্যন্ত ভক্তদর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই থাকে।

সুমন পাল বলেন, প্রতিমার মাটির কাজ শেষ। এখন সাদা রঙ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন রঙে মায়ের প্রতিমা সাজিয়ে তোলা হবে। এখনও আরো ১০ থেকে ১২ দিন বাকি থাকায় ধীরে স্বস্তিতেই কাজ চলছে। আমি সহ ৬জন মিলে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করছি। মহালয়ার পর থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চলবে। আশা করছি পঞ্চমীতেই প্রতিমাগুলো মন্ডপে পৌঁছে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৮টি প্রতিমার কাজ পেলেও এবার ৩টি বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে অনেকেই এসেছেন প্রতিমার অর্ডার দেওয়ার জন্য কিন্তু সময় না থাকায় রাখতে পারিনি। তারা জানিয়েছে করোনার লকডাউন থাকায় তখন প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এখন যখন সব কিছু স্বাভাবিক হয়েছে তাই প্রতিমা তৈরি করে দেওয়ার জন্য এসেছেন। কিন্তু এতো কম সময়ে প্রতিমা দেওয়া সম্ভব না। সেজন্য আমরাও অর্ডার নেইনি।

তিনি আরো বলেন, এবার সব কিছুর দাম অনেক বেশি। যার জন্য প্রতিমার খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু আশানারূপ দাম পাইনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি তাই কাজ করছি। মন্ডপের সাজসজ্জার কমার্শিয়াল আর্টিষ্ট টিংকু কুমার দে বলেন, আমি এবার দুটি পূজা মন্ডপের কাজ করছি। একটি প্রজন্ম প্রত্যাশা ও অন্যটি ডিআইটি পূজা মন্ডপ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্যকে ঠিক রেখে সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতির আধলেই মন্ডপগুলো সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ডপের অনেক কাজ শেষ। বিশেষ করে ককশিটের কাজ শেষ। এখন ফ্রেম সহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকদিন পর থেকে রঙের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, করোনায় কাজে একটি প্রভাব ফেলেছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে আর মানুষের কাছে টাকাও নেই। সবাই কমের মধ্যে কাজ করাতে চায়। আবার ভালো না হলে টাকাও দিবে না। ভালো কিছু দিতে হলে অবশ্যই টাকা খরচ করতে হবে। এসব দিক চিন্তা করে আমি দুটা কাজই করছি। তবে সাধ্যের মধ্যে সেরা কাজটাই আমরা এখানে দিতে চেষ্টা করছি। পঞ্চমীর মধ্যেই আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

বলদেব জিউর আখড়া শিব মন্দিরের সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পী বলেন, পূজার প্রস্তুতি অনেক ভালো। করোনা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পূজার আয়োজন করবো।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আমি এ পূজা মন্ডপের সভাপতি। কিন্তু কখনো আমরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম না। ঈশ্বরের কৃপায় এবারও কোন শঙ্কা নেই। প্রশাসন অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। আমরা সেগুলো অনুসরণ করবো। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের মানুষ একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেই উৎসব পালন করে।

জয় কে রায় বাপ্পী বলেন, করোনায় লকডাউনের কারণে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হয়নি। অনেকের হাতে টাকা নেই। এজন্য বড় কোন বাজেট নেই। তবে পূজার আয়োজন ঠিকই আছে। আমরা প্রসাদের আয়োজন করছি। দশমীতে সিধুঁর দান সহ প্রতিদিন পুষ্পাঞ্জলী দেওয়া এসব কিছুই থাকবে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মার্কেট ও ফুটপাতে কেনাকাটা করতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী পুরুষরা। বিগত বছর করোনায় তেমন বের হতে না পারলেও এবার মনের ইচ্ছা অনুযায়ী মার্কেটগুলো ঘুরে ঘুরে পছন্দের পোশাক কিনছেন। মার্কেটগুলোতে তেমন ভীড় না থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে এসব থেকে বেশি ভীড় দেখা যাচ্ছে শাড়ি ও বাচ্চাদের পোশাকের দোকানগুলোতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here