প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মুঃ আঃ মোতালিব তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ রাতের আধারে ৮বিঘা জমির আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে চার হাজার তরমুজ দুবৃত্তরা দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরি মেরে নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের ঘামে শ্রমে ফলানো তরমুজ খেতের এঅবস্থা দেখে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় ভেঙ্গে-মুশরে পরেছেন কৃষক জহিরুল।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম মল্লিকের খেতে। এঘটনায় শনিবার সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছে। জানা গেছে, আমতলী সদর ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা গ্রামের মজিদ মল্লিকের ছেলে কৃষক জহিরুল ইসলাম মল্লিক হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের বাবুল চৌকিদারের ৮বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ১বছরের জন্য লিজ নিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে এবছর তরমুজ চাষ করেন।
ফলনও ভাল হয়েছে। তরমুজ বিক্রির লাভের টাকায় একটি পাঁকা ঘর বানোর স্বপ্ন দেখছিলেন জহিরুল। কিন্ত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের দায়ের কোপে তার পুরো তরমুজ খেত নষ্ট হওয়ায় এখন তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। খেতের প্রায় আনুমানিক সাড়ে চার হাজার তরমুজ দৃর্বৃত্তরা দা দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরি মেরে নষ্ট করে দিয়েছে। নওগার পাইকার মতিন সরদার খেতের তরমুজ কেটে ট্রাকে শনিবার সকালে তুলে নঁওগায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাবেন বলে কথা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে বায়নাও করে ছিলেন মতিন সরদার।
সকালে তরমুজ তুলতে গিয়ে দেখেন খেতের সকল তরমুজ কেটে নষ্ট করে রেখেছে দৃর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে জহিরুল ছুটে আসেন খেতে। তার খেতের এরকম সর্বনাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। কোন উপায় না পেয়ে শনিবার সকালে জহিরুল ছুটে যান থানায়। অজ্ঞাত আসামী করে আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে আমতলী থানার এসআই মো. হেলাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মতি মোল্লা বলেন, কৃষক জহিরুল ইসলাম হাজার হাজার টাকা খরচ করে তরমুজ চাষ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে নওগার এক পাইকার বায়নাও করেছে। শনিবার সকালে তরমুজ নিয়ে যাওয়ার কথা। সকালে পাইকার খেতে তরমুজ নিতে গিয়ে দেখে সব তরমুজ দায়ের কোপে এবং চাকু মেরে নষ্ট করে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। নষ্ট করা তরমুজ এখন আর বিক্রি করতে পারবে না। তাই কৃষক জহিরুলের এখন পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল চৌকিদার বলেন, কারো সাথে সত্রুতা থাকতে পারে তাতে এইভাবে কারো নর্বনাস করা ঠিক না। ক্ষতিগ্রস্ত চাষী মো. জহিরুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে ৮বিঘা জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। শুক্রবার সন্ধ্যায় নওগার পাইকার মতিন সরদারের নিকট আড়াই লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছি। তাতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ হত।
এবছর স্বপ্ন দেখছিলাম লাভের টাকায় একটি ঘর বানোবো। আমার সে স্বপ্ন পূরনতো দুরের কথা আমার খেতের সব তরমুজ দা দিয়ে কুপিয়ে এবং চাকু মেরে আনুমানিক প্রায় সাড়ে চার হাজার তরমুজ নষ্ট করে ফেলেছে। কোন তরমুজ খাওয়ার মত নেই। আমি ধার দেনা এবং লোন করে তরমুজ চাষ করেছি এহন কি দিয়া দেনা পরিশোধ করমু হেই চিন্তায় আছি। মোর ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন গতি নাই।
আমতলী থানার এসআই মো. হেলাল বলেন, অভিযোগ পেয়ে শনিবার সকালে তরমুজ খেত পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। খেত নষ্ট করার সত্যতা পাওয়া গেছে।
এভাবে একজন কৃষকের তরমুজ খেত শত্রুতা করে নষ্ট করা ঠিক হয়নি। তদন্ত চলছে। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।





