প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে যৌতুকের বলি দুই সন্তানের জননী আছিয়া বেগম (২৫)। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ উপজেলার পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়ার স্বামীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, উপজেলার নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামের আব্দুর রব পহলানের পুত্র ফরহাদ হোসেন পহলান (৩০) এর সাথে প্রায় ৭-৮ বছর আগে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামের মজিবর জমাদ্দারের কন্যা আছিয়ার সাথে। বিয়ের পর থেকেই ফরহাদ যৌতুকের দাবি করে আসছিল। আছিয়ার দরিদ্র পিতা বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবির লক্ষাধিক টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেনি।
নতুন করে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় মারধর করত ফরহাদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি জানান, যৌতুকের দাবিতে ফরহাদ তার স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার সময়ের রাতে আছিয়াকে ফরহাদ মারধর করেছে। আছিয়ার দরিদ্র পিতা মজিবর জমাদ্দার জানান, আমার মেয়ে আছিয়ার বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে লক্ষাদিক টাকা দিয়েছি। এরপরও আরো যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে বিভিন্ন সময় মারধর করত। শুক্রবার রাতে মারধরের এক পর্যায়ে আছিয়া মারা যান।
তাকে অপমৃত্যু বলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘোষণা দেয় ফরহাদের পরিবার। তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানান, রাত ১২টার দিকে আত্মহত্যার খবর পেয়ে আছিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার রাতেই গৃহবধুকে মারধর করার খবর শোনা গেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় হত্যা হয়েছে বলে আছিয়ার বাবা দাবি করেন। এব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।





