তালতলীতে বিদ্যালয়সংলগ্ন ৬ ঝুকিপূর্ণ ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের

0
তালতলীতে বিদ্যালয়সংলগ্ন ৬ ঝুকিপূর্ণ ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥ বরগুনার তালতলী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন একাধিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও সেতুর পাটাতন ভেঙে খালে পড়ে গেছে, কোথাও বা দেবে গেছে মাঝখান। ভেঙে পড়া কিছু সেতুর স্থানে স্থানীয়রা অস্থায়ীভাবে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করলেও তা অত্যন্ত নাজুক।

ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সেতু পার হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি সেতু শিক্ষার্থীদের পারাপারের সময় ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। এরপরও টেকসই কোনো সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গেন্ডামারা সোনারপুল সেতু, বেহালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু, পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু ও হুলাটানা সেতু বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়াও শানুর বাজারসংলগ্ন বেহালা খালের ওপর সেতু এবং তালতলী মাছ বাজারসংলগ্ন সেতু কয়েক বছর আগে খালে ভেঙে পড়ে আছে। বিশেষ করে সোনারপুল সেতুটি দুই পাড়ের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুর পূর্ব পাড়ে রয়েছে গেন্ডামারা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত উত্তর গেন্ডামারা উম্মুল ক্বোরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উম্মুল ক্বোরা কলেজ ও একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা।

প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও উপজেলা শহর ও বাজারে যাতায়াতের জন্য এই সেতুগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। পশ্চিম ঝাড়াখালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু ভেঙে পড়ায় বর্তমানে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে। অন্যদিকে তালতলী সদর মাছ বাজারসংলগ্ন সেতুটি ভেঙে পড়ায় পশ্চিম পাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠী চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

ওই পাড়ে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য নূরানী ও হাফেজি মাদ্রাসার দুই শতাধিক শিক্ষার্থীও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত এসব সেতু সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে এলজিইডির তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “তালতলী মাছ বাজার, শানুর বাজার ও হুলাটানা সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে অন্য সেতুগুলোর রাস্তার আইডি না থাকায় সেগুলো আমাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।”

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, রাস্তার আইডি জটিলতায় যদি জরুরি সেতুগুলো তালিকাভুক্ত না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here