খাল খনন করায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তালতলীর কয়েক হাজার কৃষক

0
খাল খনন করায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তালতলীর কয়েক হাজার কৃষক

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মুঃ আঃ মোতালিব তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃখনন করায় জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হওয়ায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ওই ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক। খালগুলো পুনঃ খনন করায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলু মাঝি, সুন্দরিয়া, তাতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ ৯ টি খালে পলি জমে ভরাট হয়ে ছিলো। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে বছরে শুধুমাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো কৃষকদের। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যেত চাষের জমি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট হতো ক্ষেতের ফসল। তার উপর রাস্তার দূরাবস্থায় কৃষি পণ্য আনা নেওয়ায় কৃষকদের কাঠখোর পোহাতে হতো।

এমন দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি এর অধীনে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ইউনিয়নের ৯ টি খালের ১৯ কিলোমিটার অংশ খনন করে দেয় হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এতে কৃষকের ফসলি জমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন রাস্তা।নলবুনিয়া এলাকার কৃষক জালাল মিয়া বলেন, ‘কিছুদিন আগেও এই খালগুলো ডোবা-নালায় মতো এতে গ্রামের লোকজন ময়লা আবর্জনা ফেলতো। এতে মশা, মাছির জন্ম হতো। যার ফলে মেলেরিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি হতো। এছাড়াও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশে দিয়ে হাঁটা চলা যেত না। এখন প্রকল্পের মাধ্যমে খালগুলো খনন করায় এলাকার লোকজন অনেক উপকৃত হবে।

‘তাঁতিপাড়া গ্রামের জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, আমরা সাধারণ কৃষক পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করতাম। এখন খাল খননের ফলে একাধিক ধান চাষসহ নানা ধরনের ফসল ফলাতে পারব। যার ফলে বেকারত্ব দূর হবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব। আমাদের দাবি সরকার যেন এই ধরনের খাল খনন প্রকল্প অব্যহত রাখেন।

‘সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালগুলো পুনঃ খনন করায় বিগত দিনের সমস্ত রেকর্ড অতিক্রম করে কৃষিতে একটি বিপ্লব পরিবর্তন আসবে। এর ফলে বেকারত্ব দূর হবে এবং কৃষক তাদের এক ফসলি জমি ২ থেকে ৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করতে পারবে।’তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রকল্প অনুযায়ী খাল গুলো যথাযথ ভাবে পুনঃ খনন করা হয়েছে।

যার ফলে কৃষি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।’তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, উপজেলার অনেক এলাকায় গ্রীষ্মের সময় পানির অভাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ধান চাষসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন ব্যহত হতো।

এখন খাল পুনঃ খননের ফলে পানি সেচের সুবিধা ও জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় এক ফসলি জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করতে পারেন। যার এই এলাকার কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here