প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জিয়াউর রহমান জিয়া মহেশপুর (ঝিনাইদহ) থেকে ঃ ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে দিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার সরকারি ড্রেন নির্মানের কাজ করা হচ্ছে। এসব ড্রেনের বেশি ভাগ ঢালায় রাতের আধারে দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণ কাজে নকশা অনুযায়ী লিপটিং ম্লাপে ফিলেট রড না দেওয়া, রডের দুটি খাঁচার পরিবর্তে একটি করে খাঁচা দিয়ে ঢালাই দেওয়া ও সিলেকশন পাথরের সাথে কুষ্টিয়ার বালি ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভার সামনের মাছ বাজার থেকে পোষ্ট অফিস পর্যন্ত ৫৪০ মিটার ড্রেনের প্রায় ১৫০ মিটার কাজ ইতো মধ্যে অনিয়মের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে। এভাবে অনিয়মের মধ্যে দিয়ে পুরো ৫৪০ মিটার ড্রেনের কাজ শেষ হলে সরকারের ১৫-২০ লাখ টাকা যাবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাদের পকেটে। এদিকে ঠিকাদারদেরকে প্রভাবিত করে মোটা অংকের ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে এসব অনিয়মে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পৌরসভার উপ-সহকারী-প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। সরকারের আইইউজিআইপি প্রকল্পের প্রথম ধাপে ২২ কোটি টাকায় ড্রেন ও রাস্তা নির্মানের কাজ করছেন ডকইয়ার্ড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবে পৌরসভার মাছের হাট থেকে শুরু করে পোষ্ট অফিস পর্যন্ত ৫৪০ মিটার ড্রেন নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। ইতো মধ্যে প্রায় ১৫০ মিটারের মত কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়া ড্রেনের বেশি ভাগ ঢালায় রাতের আধারে দেওয়া হয়েছে। লিপটিং স্লাপে ফিলেট রড দেওয়া হয়নি। সিলেকশন পাথরের সাথে কুষ্টিয়ার বালি ভেজাল দেওয়া হয়েছে ও মাছ হাটের কালভাটের থেকে বেশ কিছু অংশের স্লাপে ড্রাবল রডের খাঁচার পরিবর্তে মাত্র একটি খাঁচা দিয়ে ঢালায় দেওয়া হয়েছে।সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে পৌরসভার পাশের শিল্পী কনফেকশনারীর সামনের ২০ ফুটের মত কালভার্টের লিপটিং স্লাপ ঢালাইয়ের জন্য রড দিয়ে খাঁচা প্রস্তুত করা হয়েছে।
কিন্তু সেখানে কোন ফিলেট রড দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করলে ও পৌর প্রশাসককে জানানো হলে রাতে ঢালাইয়ের সময় তড়িঘড়ি করে ২৪ ইঞ্চি পর পর একটি করে ফিলেট রড দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ঢালায় কাজের প্রধান মিস্ত্রী লিটন বলেন, গতকালের আগে লিপটিং স্লাপের আগা-গোড়া কোথাও ফিলেট রড দেওয়া হয়নি। পৌর সভার উপ-সহকারী-প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাতারাতি ঢালায় কাজ করিয়েছেন। মাছ বাজারের ওই পাশের কালভাট থেকে মাঝখান পর্যন্ত বেশ কিছু অংশে ড্রাবল খাঁচার পরিবর্তে রাতারাতি একটি করে খাঁচায় দিয়ে সাইফুল ইসলাম ঢালায় করিয়েছেন।
উনি প্রচুর পরিমাণে ঘুস খাচ্ছেন। এমনকি ঢালাইয়ে ৬ -৭ টা খোয়া বালি দেওয়া কথা থাকলেও উনি ওই জায়গায় ১০টা করে দিয়ে ঢালায় করিয়েছেন। সাইফুল সাহেব নিজে সিলেকশন পাথরের সাথে কুষ্টিয়ার বালি ভেজাল দিয়ে কাজ কারাচ্ছে তিনি। এসব করিয়ে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। যদি ঠিকাদারের ম্যানেজার টাকা দিতে না চাই তাহলে সাইফুল ইসলামহেড অফিসে ওই ম্যানেজারের নামে অভিযোগ দেন।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী-প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন ফিলেট রড বেঁধে ঢালাইয়ের আয়োজন করছি। আমার একার কমান্ডে অফিসটা চলে না। আমি এবং আমার প্রশাসক ম্যাডাম ঠিক আছি। আমরা একটি টাকাও ঘুস খায় না। সাইটে এত কাজ করি তার বদলে একটি চাও খাই না। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীরে আমি শক্তপোক্তভাবে পায়না। নির্বাহী প্রকৌশলী শক্ত না হওয়ায় আমি উনার সাথে পারছি না।
পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ওই কাজের দায়িত্বে আছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। তিনি আমাদের কাছে কোন অনিয়মের খবর জানাননি। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তার সকল দায়ভাব সাইফুল ইসলামকে নিতে হবে।





