অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে সেবা বঞ্চনা, তালতলী সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ

0
অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে সেবা বঞ্চনা, তালতলী সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শোকজ

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মুঃ আঃ মোতালিব তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে নির্ধারিত কর্মদিবসে অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের দায়িত্ব পালনে তাঁর গাফিলতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বলা হয়, আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তালতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানের নির্ধারিত কর্মদিবসে তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) তিনি তালতলী কার্যালয়ে থাকার কথা থাকলেও সেদিন অফিসে আসেননি। অথচ তিনি পূর্বেই লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে প্রতি সপ্তাহের সোমবার তিনি তালতলী কার্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। অফিসে তাঁর অনুপস্থিতির কারণে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ও সেবা প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছার পুরো মাসে মাত্র একদিন তালতলী অফিসে উপস্থিত হন। এতে বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সেবা নিতে আসা মানুষকে ফিরে যেতে হয়। ফলে বাড়ছে ভোগান্তি, ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত সরকারি সেবা। তাঁদের অভিযোগ,অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে মাসে একদিন অফিস করে তালতলীর মানুষের সঙ্গে অবিচার করা হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ কিংবা তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপপরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ এসেছে যে তিনি মাসে একদিন বা দুই মাসে একদিন তালতলীতে অফিস করেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। এজন্যই তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। তালতলীতে স্থায়ী একজন কর্মকর্তা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে আমি সুপারিশ করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here