আগে থেকেই জানেন পৌর প্রকৌলশী মহেশপুরে সরকারি ড্রেনের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

0
আগে থেকেই জানেন পৌর প্রকৌলশী মহেশপুরে সরকারি ড্রেনের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জিয়াউর রহমান জিয়া মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ঃ  মহেশপুর পৌরসভায় সরকারি ড্রেন খনন করা মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাহার  ব্রীক্স নামের একটি ইটের ভাটায়। সরকারের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২য় ধাপে ১৮ কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ড্রেন ও রাস্তা নির্মানের কাজ পান র‌্যাবআরসি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ওই প্যাকেজে প্রায় ৬ কিলোমিটার ড্রেন নির্মানের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেড় কিলোমিটারের মত ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ করা ড্রেনের সকল মাটি ওই ভাটাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি ড্রেনের মাটি ভাটায় নিয়ে যাওয়া হলেও পৌর প্রশাসক খাজিদা আক্তার কিছুই জানেন না। তবে এব্যাপারে আগে থেকে সব কিছু জানেন পৌর সভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার জলিলপুর বাজার ছারিয়ে বটতলার মোড়ে ভেকু দিয়ে ড্রেন খননের কাজ করা হচ্ছে।

খনন করা সমস্ত মাটি রাস্তার পাশে আগে থেকে ভিড়ানো ট্রাক্টরে তুলে দিচ্ছেন ভেকু চালক। একের পর এক ট্রাক্টরে করে ওই মাটি নিয়ে গিয়ে রাখা হচ্ছে দুই কিলোমিটারের বেশি দুরুত্ববর্তী বাহার ভাটার ভিতরের ইট বানানোর মাটির স্তুপে। এর আগেও একই নিয়মে কাজ সম্পন্ন হওয়া সরকারি ড্রেনের মাটি ওই স্থানেই রাখা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ওই মাটি ইটকাঁটার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে জানা গেছে। জলিলপুরের স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুর সাত্তার বলেন, মহেশপুরের কয়েকজন মিলে ড্রেন ও রাস্তার কাজটি প্রকৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন।

আজকের দিন দুপুরের আগ পর্যন্ত ১’শ ট্রাক্টরের বেশি মাটি বাহার ভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়া ড্রেনের সকল মাটি একই ভাবে আগেও ওই ভাটাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কবরস্থানের জন্য কিছু মাটি চেয়ে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছিলো কিন্তু এখন পর্যন্ত একগাড়ি মাটিও দেওয়া হয়নি। সরকারি মাটি কবরস্থানে না দিয়ে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এ ড্রেন থেকে  প্রায় কোটি টাকারও বেশি মাটির ব্যবসা করবেন ভাটা মালিক।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেনের মাটি নিয়ে গিয়ে ভাটায় স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আবারও ওই মাটি নিয়ে এসে ড্রেনের খালি জায়গা গুলো পুরন করা হবে। কিভাবে সরকারি মাটি ভাটায় যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ঠিকাদাররা মাটি নিয়ে গিয়ে ভাটায় স্তুপ করে রাখছেন। পরবর্তীতে ওই মাটি গুলো আবারও নিয়ে এসে ড্রেনের পাশে দিয়ে দিবেন।

অতিরিক্ত মাটি গুলো কিভাবে বুঝে নিবেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কাজ শেষে ঠিকাদাররা অতিরিক্ত মাটি বুঝিয়ে দিবেন।এব্যাপারে পৌর প্রশাসক খাদিজা আক্তার বলেন, সরকারি ড্রেনের মাটি ভাটায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। কিভাবে মাটিগুলো ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এটা প্রকৌশলী বলতে পারবেন। তবে আমি এখনই এব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here