প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় আসন্ন সেচ মৌসুমে মেঘনা–ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা সেচ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পুরো সেচ মৌসুমজুড়ে পানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং কোনো অজুহাতে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হবে না বলে প্রতিজ্ঞা করা হয়।
উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভার শুরুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতিত্বে ও আহ্বানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফয়সাল মোহাম্মদ আলী, সহকারী কৃষি অফিসার আবুল কালাম আজাদ, সকল ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দসহ মেঘনা–ধনাগোদা পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আহমেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাউদ্দিন, পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের সদস্য মনজুর আহমেদ স্বপন, নুরুল আমিন, খোরশেদ আলম, ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহিন চৌধুরী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদ, মতলব উত্তর উপজেলার সভাপতি মো: আতাউর রহমান সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আল মামুন, ফসলের জাত উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হেলাল শিকদার, মেহেদী হাসান লিটন, জসিম প্রধানসহ সাধারণ কৃষকবৃন্দ।সংবাদকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন এবং মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম। সভায় জানানো হয়, গত ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সভায় জানুয়ারি মাস থেকেই পানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।
পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভায় পহেলা জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেচ সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশনের আওতাধীন কাজের প্রায় ২০ শতাংশ অসম্পূর্ণ থাকায় সময়সূচি সাত দিন পিছিয়ে ৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।সভায় আরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, নভেম্বরে কৃষকদের মধ্যে মাইকিং করে পানি সরবরাহের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে তারা সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি করতে পারে। বক্তারা বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পানি পেলে দিগুণ ধান উৎপাদন সম্ভব এবং বীজতলা তৈরি করতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, দেরিতে পানি সরবরাহের কারণে শীতে বীজের অঙ্কুরোদগম ও চারা উৎপাদন কঠিন হয়ে যায়। পাশাপাশি আগে চারা তৈরি করলে চারার বয়স বেড়ে ফলন বিপর্যয় ঘটে। তাই একটি মাত্র সমাধান হলো সঠিক সময়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। সভায় বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পাশাপাশি পানির সুষম বণ্টন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা শেষে উপস্থিত সকলেই গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আগামী বছর থেকে পহেলা জানুয়ারি থেকেই পানি সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।





