ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বর্ষসেরা চা’প্রেমীদের সম্মাননা প্রদান

0
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বর্ষসেরা চা’প্রেমীদের সম্মাননা প্রদান

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মো: মাহফুজুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : মাদক ছেড়ে চা ধরুন, মোবাইল আসক্তি কমিয়ে বই পড়ুন’ স্লোগানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চা দোকানদার হারুন মিয়ার ব্যতিক্রমী আয়োজনে এবারও অনুষ্ঠিত হয় বর্ষসেরা চা’প্রেমী সম্মাননা। বুধবার মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিশ্বজিৎ দাস। স্বজন সমাবেশ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামাবাদ ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. এমদাদুল হক। সঞ্চালনা করেন গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক কবি সেলিম আল রাজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চা-দোকানি হারুন মিয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাবুই প্রকাশনীর সম্পাদক ও শিশুসাহিত্যিক কাদের বাবু, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীতা মন্ডল, ভূটিয়ারকোনা স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন, কালের কন্ঠের ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আলম ফরাজী, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক শামীম খান, স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মোশারফ হোসেন সোহেল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, হারুন মিয়া গৌরীপুরের একজন আলোকিত মানুষ। একজন চা বিক্রেতা হয়ে তিনি সমাজসচেতনতা নিয়ে কথা বলছেন। একটি পাঠাগার তৈরি করে মানুষকে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। সদূর দিনাজপুর থেকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এসে এমন একটি আয়োজনে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি মনে করি, হারুনের মতো তরুণরা সামাজিক কাজকর্মে এভাবে জড়িয়ে থাকলে সমাজ থেকে অন্ধকার দুর হয়ে যাবে।

উল্লেখ হারুন মিয়ার বাড়ি গৌরীপুর পৌর শহরের সতিষা মহল্লায়। ছয় ভাই বোনের মধ্যে হারুন পঞ্চম। মাধ্যমিকে পড়াশোনার ইতি ঘটলে ২০১২ সালে গৌরীপুর পৌর শহরের কালীখলা এলাকায় জালাল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনে ( বর্তমান বিএনপির পার্টি অফিস) বারান্দায় চা স্টল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর দোকানের সেরা গ্রাহকেদর বর্ষসেরা সম্মাননা প্রদান করছেন। ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি পোগ্রামে ভর্তি হোন।

পরবর্তী একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাশ করে বর্তমানে ডিগ্রিতে অধ্যায়নরত আছে। ২০২৩ সালে চা স্টলের শতাধিক বই নিয়ে হারুন পাঠাগারের যাত্রা শুরু করে। হারুন মিয়ার বাবা পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন, ২০২৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তার ওপরে। বর্তমানে ছোট বোন আর মা নিয়ে হারুনের তিন সদস্যের পরিবার। ছোট বোন বীনা আক্তার গৌরীপুর সরকারি কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত।

বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা ঘর সংসার করছেন। মুক্তিযোদ্ধার চায়ে অর্ধেক দাম, মাদকবিরোধী আন্দোলন, গ্রাহকদের নিয়ে দুর্নীতিবিরুধী বিক্ষোভ এবং পাঠাগার তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি।হারুন মিয়া বলেন, আমার পাঠাগারটিতে দেড় হাজারের মতো বই আছে, আমার স্বপ্ন পাঠাগারটি বড় করা মানুষের উপকার হয় এমন কাজে জড়িত থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here