দীর্ঘ ১৫ বছর পর মতলব উত্তরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের ছাপ

0
দীর্ঘ ১৫ বছর পর মতলব উত্তরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের ছাপ

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় রোববার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মূল কেন্দ্র ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও সাব কেন্দ্র সিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে।

এতে উপজেলার ৪১টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৮শ’৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭শ’৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তারমধ্যে ২৪৭ জন ছাত্র এবং ৫১৭ জন ছাত্রী। আর অনুপস্থিত রয়েছে ১২১ জন। এদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর পর মাধ্যমিক স্তরে পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে দেখা গেছে উৎসাহ ও আনন্দের ছাপ।পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে সঠিক সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে বলে জানান অভিভাবকরা। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে ছিল কড়া নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আশাবাদীভাবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলে জানা যায়।

মূল কেন্দ্র ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,উপজেলা ইউআরসি ইন্সপেক্টর মোঃ শফিকুল ইসলাম অঅর কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ¦ মোঃ বেনজির আহমেদ মুন্সী। সাব সেন্টার সিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোঃ মনিরুল হক পাটোয়ারী বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘেœ পরীক্ষা দিতে পারে আমরা সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখছি। শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম আরও বলেন,“অত্যন্ত সুন্দর, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আজকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নেতৃত্ব দেবে।”শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে উৎসাহিত হবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের পর থেকে মাধ্যমিক স্তরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ ছিল। নতুন করে এ পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here