মতলবে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির দু’ঘণ্টার মধ্যেই যুবকের মৃত্যু

0
মতলবে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির দু’ঘণ্টার মধ্যেই যুবকের মৃত্যু

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মতলব চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই মোঃ সিয়াম (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে তিনি হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তার বাবা আব্দুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। এ সময় সিয়ামের নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই তার অবস্থার আরও অবনতি হলে পরে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মোঃ মোবারক হোসেন মামুন বলেন, সিয়ামকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, কারও জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। সিয়ামের স্বজন হাবিবুর রহমান বলেন, সিয়াম তার ভাতিজা। কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও বিষয়টি কাউকে জানায়নি। বাড়িতে বিছানায় ছিল এক সপ্তাহ। হাসপাতালে গিয়ে তার নিথর দেহ দেখে বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়ামের বাবা আব্দুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার গত এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর। আমি ওরে কইছি ডাক্তারের কাছে যাইয়া চিকিৎসা নে। কিন্তু অয় আমার কথা হুনে নাই। আইজকা অবস্থা বেশি খারাপ হইয়া গেলে হাসপাতালে লইয়া আইছি। হাসপাতালে আওনের পর ওর নাকে-মুখে দিয়া রক্ত বার হইছে। ডাক্তার চিকিৎসা করছে। পরে ঢাকা হাসপাতালে নেওনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স রেডি করছিলাম। কিন্তু যাওনের আগেই আমার পোলাডা আমাগো ছাইড়া চইলা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here