ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, এক সপ্তাহেও মেলেনি ত্রাণ

0
ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, এক সপ্তাহেও মেলেনি ত্রাণ

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ জেলা সংবাদদাতা: টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার মনপুরা উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এক সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ কিংবা শুকনো খাবার পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে এলাকাগুলোতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাওয়া যায়নি।

ফলে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। টানা জলাবদ্ধতায় নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে। আয়-রোজগার না থাকায় অনেক পরিবার খাবারের সংকটে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তবে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে চরফ্যাশন-মনপুরা আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে উপজেলা যুবদলের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার ঢাকা-মনপুরা-হাতিয়া রুটে কোনো লঞ্চ চলাচল করেনি। এতে রাজধানীর সঙ্গে মনপুরার নৌ-যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবার ঘরের খাট বা উঁচু কাঠের মাচার ওপর চুলা বসিয়ে রান্না করছে।

তবে অধিকাংশ পরিবারের চুলায় খাবার রান্না হয়নি। অনেকেই মুড়ি ও পানি খেয়ে দিন পার করছেন। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়া উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাট ও চরগোয়ালিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়ার রহমানপুর ও সাকুচিয়া এবং মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এলাকার মানুষ এখনও জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছেন।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সাত দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর সহায়তা মেলেনি। তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালিকা সম্পন্ন হলে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য খাল খননের প্রকল্পও নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here