ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, ১০-১২ জন আহত; জনমনে আতঙ্ক ! 

0
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব, ১০-১২ জন আহত; জনমনে আতঙ্ক ! 

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মোঃ মাহফুজুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে কুকুরটি একের পর এক পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাকে কামড়ায়। এতে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হাঁটার সময় মো. মামুন করিম নামে এক ব্যক্তিকে কুকুরটি পায়ে কামড়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় তাঁর পায়ের কিছু অংশের মাংস ছিঁড়ে যায়।  পরে তিনি চিকিৎসার জন্য গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে একই কুকুরের কামড়ে আহত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে চিকিৎসা নিতে দেখেন।

এদিকে সকালে পৌর শহরের পাটবাজার মোড়ে দোকান খুলতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল থেকে কুকুরটি পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এলাকা, বন বিভাগ, আর.কে. হাই স্কুল সড়ক, নয়াপাড়া, খেলার মাঠ, কলাবাগান ও নিমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে মানুষকে কামড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে  ঘটনাগুলোর পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গৌরীপুর পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  তাদের দাবি, পাগলা কুকুরটি দ্রুত শনাক্ত করে অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে ক্ষতস্থান সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহমান পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. দিবাকর ভাট জানান, সকাল থেকেই কুকুরের কামড়ে আহত রোগী হাসপাতালে আসা শুরু হয়।

সকালের শিফটেই আমরা ১১ জন রোগীর নাম খাতায় নথিভুক্ত করেছি। এরপরও আরও কয়েকজন এসেছেন, যাদের তথ্য বর্তমানে সংকলন করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের পরিস্থিতির বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আক্রান্ত প্রত্যেক রোগীকে আমাদের এখানে দ্রুততার সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।

ফলে রোগীরা নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, হঠাৎ করে একদিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কুকুরের আক্রমণের শিকার হওয়ার বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এই চিকিৎস কর্মকর্তা। পশুর ঋতুগত (সিজনাল) কোনো পরিবর্তনের কারণে এমন আচরণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আমি দ্রুতই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার (ইউএলও) সাথে এই বিষয়ে কথা বলব, যাতে এর পেছনের মূল কারণটি উদঘাটন করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here