তালতলী ও আমতলীতে লামপি স্কিন রোগে দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত কয়েক হাজার

0
তালতলী ও আমতলীতে লামপি স্কিন রোগে দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু, আক্রান্ত কয়েক হাজার

প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ মুঃ আঃ মোতালিব তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥ তালতলী ও আমতলী উপজেলায় ব্যাপক হারে লামপি স্কিনে রোগে দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু এবং হাজার হাজার গরু ও মহিষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভাইরাস জনিত লাম্পি স্কিন রোগে ব্যাপক হারে গরুর মৃত্যুর ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পরেছে কৃষকরা। এই রোগের পাশাপাশি খুরারোগের প্রকোপ ও চরম আকার ধারন করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তালতলী ও আমতলী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গরু মহিষ ও ছাগলের খুরা রোগের আক্রমন শুরু হয়। ওই মাসের শেষের দিকে শুরু হয় গরুর লাম্পি স্কিন ভাইরাসের। ১৫ দিনের ব্যবধানে উপজেলার কয়েক হাজার গরু মহিষের মধ্যে খুরা রোগের আক্রমন দেখা দেয়। এর ১৫ দিনের ব্যবধানে মে মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হয়ে উপজেলার সর্বত্র মহামারি আকারে গরুর শরীরে লাম্পি স্কিন ভাইরাস জনিত রোগ ছড়িয়ে পরে।

এই রোগে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১লক্ষ ৭৪ হাজার ১শ’ ৭০টি গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১লক্ষ ৪০ হাজার ৭শ’। মহিষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮শ’ ৫০টি ও ১৯ হাজার ৬শ’ ২০টি ছাগল রয়েছে। রবি ও সোমবার দু’দিন আমতলী উপজেলার হলদিয়া, কুকুয়া, চাওড়া, আমতলী সদর ইউনিয়নের মানিকঝুড়ী, ছুরিকাটা, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটার বিভিন্ন গ্রাম সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের গোয়ালে শত শত গরু মহিষ খুরা ও লামপি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে লামপি স্কিন রোগে প্রায় দেড় শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার। খুরা রোগে মারা না গেলেও আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ছুরিকাটা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানান, লামপি স্কিন রোগে আমার ২লক্ষ টাকা দামের ৩টি গরু মারা গেছে। গরু ৩টি মারা যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমতলী সদর ইউনিয়নের লোছা গ্রামের ইয়াছিন বলেন, লামপি স্কিন রোগে আমার ১ লক্ষ টাকার ১টি গরু মারা গেছে। দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের নুরজামান জোমাদ্দার জানান, গরুর গায়ে জ¦র আসে। তার বড় বড় আকারে গোটা উঠে আমার ১টি গরু মারা গেছে।

মানিকঝুরি গ্রামের নিজাম হাওলাদার জানান, খুরা রোগে তার ৭টি গরু আক্রান্ত হয়েছে। হলদিয়া গ্রামের ছত্তার হাওলাদার এবং চাওড়া গ্রামের রাজু বয়াতি বলেন, কৃষকের ঘরে ঘরে গরু মহিষের খুরা রোগ আর লামপি স্কিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। হলদিয়া গ্রামের ছত্তার মোল্লা বলেন, এখন কৃষকের আউষ ও আমন ধান চাষ মৌসুম। এই সময়ে লামপি স্কিন আর খুরা রোগ দেখা দেওয়া কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। পশ্চিম আঠার গাছিয়া গ্রামের জুলহাস প্যাদা বলেন, আমার ৫টি গরুর খুরা রোগ হয়েছে।

খুরা রোগ হওয়ার পর গরু ঝিমায়, মুখ দিয়ে লালা পরে ঘাষ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। গরুর গায় জ¦র থাকে। ঘাষ খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরু অনেক দুর্বল হয়ে পরে। কৃষকরা জানান, এ রোগ দেখা দিলে প্রথমে গরু মহিষ ঝিমুতে থাকে এবং শরীরে প্রচন্ড তাপ বেড়ে যায়। মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। খুরার মধ্যে এবং জিহ্বয় প্রচন্ড ঘা হয় এতে গরু মহিষ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে গরু মহিষ আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

আমতলী উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের সম্প্রাসারন কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামন বলেন, আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৫হাজার গরু লামপি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে এর মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক গরু মারা গেছে। খুরা রোগে প্রায় ১৫-১৮ হাজার গরু মহিষ আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে মারা যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি।

আমতলী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মীর. মো. আশিক বাবু বলেন, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরু মহিষের খুরা এবং লামপি স্কিন রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরেছে। তিনি বলেন, রোগ দুটি মূলত ভাইরাস জনিত। এ রোগের চিকিসা তেমন একটা নেই। তবে জ¦র এবং চুলকানির ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গরুর খুরা রোগ হলে অন্য গরু থেকে আলাদা করে রাখতে হবে কারন গরুর হাঁচি কাশির মাধ্যমে সুস্থ্য গরুর মধ্যে এ রোগটি ছড়ায়। এবং লামপি স্কিন হলে মশা মাছির মাধ্যমে এ রাগটি ছড়ায়। তাই এ রোগ হলে গরুকে আলাদা মশারি টানিয়ে রাখতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here