প্রেসনিউজ২৪ডটকমঃ চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মাদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, মতলব উত্তরের ঐতিহ্যবাহী ফরাজীকান্দি কমপ্লেক্স শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। ব্যক্তি স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চাচা মোস্তাক আহমাদ ও ভাতিজা মাসউদ আহমাদ এর মধ্যকার বিরোধের কারণে ফরাজীকান্দি কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে পারস্পরিক বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় এগিয়ে আসতে হবে।
এমপি ড. জালাল উদ্দিন আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একার নয়, এটি মতলববাসীর আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। তাই এ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে প্রশাসনের মাধ্যমে আল-আমিন শিশু সদন এতিমখানাসহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে তিনি মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ৩ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় তিনি সম্প্রতি ইমামুত্ব ত্বরীকত্ব শায়খ সায়্যিদ মুহাম্মদ বোরহানুদ্দীন উয়েসী (রাঃ)-এর ৬২তম উয়েস্বাল শরীফ উপলক্ষে ১৪৫ ধারা জারির ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা বিএনপি নেতা বশির সরকার, বিএনপি নেতা গণি তপাদার, ফেরদাউস আহমেদ, খায়রুল হাসান বেনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা চাঁদপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৯ সালে ইমামুত্ব ত্বরিকত আল্লামা শায়খ সায়্যিদ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন উয়েসী (রাঃ) এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি উয়েসীয়া ত্বরিকার অন্যতম প্রচারক ছিলেন এবং তাঁর আদর্শ ও নামানুসারেই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।





